Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় শেয়ারবাজারে তীব্র ওঠানামার পর দিনশেষে বাজার স্পষ্টতই দুর্বল অবস্থায় বন্ধ হয়েছে। গ্লোবাল অনিশ্চয়তা, মার্কিন ফেডের সম্ভাব্য নীতিগত ইঙ্গিত এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত বিক্রির ফলে বাজারজুড়ে চাপ বাড়তে থাকে শুরু থেকেই। এর ফলে সেনসেক্স ও নিফটি—দুই সূচকই বড় পতনের মুখে পড়ে। দিনের শেষে BSE Sensex প্রায় ৪৩৬ পয়েন্ট পড়ে ৮৪,৬৬৬- এ লেনদেন শেষ করে। অন্যদিকে, NSE Nifty ১২১ পয়েন্ট কমে ২৫,৮৩৯-এ শেষ করেছে দিনের লেনদেন। দিনের শুরুতেই বাজারে মিশ্র স্বর শোনা গেলেও পরে IT, অটো ও ফার্মা খাতে ব্যাপক বিক্রির চাপে সূচকগুলো দ্রুত নেমে আসে।
বিশেষ করে Tech Mahindra ও HCL Technologies-এর শেয়ার ২%-এরও বেশি নিচে নেমেছে। অটো, ফার্মা এবং বড়-মাপের ব্লু-চিপ শেয়ারেও চাপ অব্যাহত থাকে। তবে বাজারের মাঝারি ও ছোট সেগমেন্ট অর্থাৎ MidCap ও SmallCap সূচক তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল ছিল এবং কিছুটা গ্রীন জোনে লেনদেন শেষ করে। বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের এই দুর্বলতা মূলত গ্লোবাল ফ্যাক্টর—বিশেষ করে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন নীতি ঘোষণা ও বিশ্বব্যাপী ভূরাজনৈতিক চাপে তৈরি হয়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) গত কয়েকদিন ধরে নিয়মিতভাবে ভারতীয় বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন, যা বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
আরও জানা যাচ্ছে যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমাতে হাই-ভোলাটাইল সেক্টরে পজিশন ক্লিয়ার করেছেন। একইসঙ্গে মার্কিন-ভারত ট্রেড ডিল–সংক্রান্ত অনিশ্চয়তাও বাজারে প্রভাব ফেলেছে। বিদেশি ট্রেড-নীতির সম্ভাব্য পরিবর্তন রপ্তানিনির্ভর সেক্টরে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরি করেছে। দিনশেষে বাজার বিশেষজ্ঞদের জানিয়েছে, এখন সতর্কভাবে বিনিয়োগ করা জরুরি। গ্লোবাল ইকনোমিক সিগন্যাল পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বড়-মাপের বিনিয়োগ কমানোই নিরাপদ। তবে দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় বাজারের ভিত্তি এখনও শক্তিশালী এবং MidCap–SmallCap সেগমেন্টে বাছাই করে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।




