Article By – সুনন্দা সেন

আজ (২৫ জুলাই) ভারতীয় ইক্যুইটি বেঞ্চমার্ক নিম্নমুখী অবস্থানে লেনদেন বন্ধ করেছে। সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনে সেনসেক্স ৭২০ পয়েন্টেরও বেশি পতন এবং নিফটি৫০ ২৫,৮৫০- এর নীচে নেমেছে। বিশ্বব্যাপী ইঙ্গিত এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কার্যকলাপ নিয়ে বিস্তৃত উদ্বেগের মধ্যে ফিনান্সিয়াল স্টক, বিশেষ করে বাজাজ ফাইন্যান্সের কারণে বিক্রির হার বেড়েছে। ৩০ শেয়ারের BSE সেনসেক্স ৭২১ পয়েন্ট বা ০.৮৮% কমে ৮১,৪৬৩- এ স্থির হয়েছে। যেখানে বিস্তৃত NSE নিফটি ২২৫ পয়েন্ট বা ০.৯০% কমে ২৪,৮৩৭ – এ লেনদেন শেষ করেছে। BSE তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলির মোট বাজার মূলধন ৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা কমে ৪৫১.৬ লক্ষ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
আজকের বাজার পতনের পেছনে বিভিন্ন কারণগুলির মধ্যে মূল পাঁচটি কারণ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। আর সেগুলি হল:
- সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে ফিনান্সিয়াল সেক্টর থেকে, যেখানে নিফটি ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসে সূচক ১% এরও বেশি কমেছে। বাজাজ ফাইন্যান্স এবং বাজাজ ফিনসার্ভ যথাক্রমে ৫.৫% এবং ৪.৫% হ্রাস পেয়েছে। শক্তিশালী ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশ করা সত্ত্বেও MSME বিভাগে সসম্পদের মান নিয়ে উদ্বেগের কারণ এসেছে। অন্যদিকে অ্যাক্সিস ব্যাংক, HDFC ব্যাংক এবং কোটাক ব্যাংকের শেয়ারের দামও ১% পর্যন্ত কমেছে।
- সাম্প্রতিক সেশনগুলিতে বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বা FIIs নিট বিক্রেতা হিসেবে কাজ করেছে। শুধুমাত্র গত চার ট্রেডিং দিনেই তারা ভারতীয় ইক্যুইটি থেকে ১১,৫৭২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। যার কারণে বাজার গঠনও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
- গত কয়েক সেশনের মতো এই সেশনেরও উল্লেখযোগ্যভাবে পতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি ঘিরে অনিশ্চয়তা। যার জন্য বিনিয়োগকারীদের মনোভাবও চাপের সম্মুখীন হয়েছে। ১ আগস্টের সময়সীমা সামনে আসার কাছাকাছি, কৃষি ও দুগ্ধজাত পণ্যের উপর শুল্ক নিয়ে আলোচনাও রয়েছে স্থগিত।
- আজ ভারত সহ এশিয়ার বাজারগুলি নিম্নমুখী লেনদেনেনেমেছে, কারণ বিনিয়োগকারীরা মুনাফা বুক করেছেন। জাপানের নিক্কেই রেকর্ড সর্বোচ্চ থেকে ০.৫% কমেছে, যেখানে হংকংয়ের হ্যাং সেং ০.৫% এবং অস্ট্রেলিয়ার ASX ২০০-০৫% কমেছে। মূল ভূ-খন্ডের চীনা ইনডেক্সগুলিও হ্রাস পেয়েছে।
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লন্ডন সফরের সময় ২৪ জুলাই ভারত ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যদিও এই চুক্তি শুল্ক হ্রাসের মাধ্যমে টেক্সটাইল, হুইস্কি এবং অটোমোবাইলের মতো খাতগুলি উপকৃত হলেও, এই মুহুর্তে এর প্রভাব শেয়ার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব আনতে অসমর্থ।




