Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শেয়ারবাজারে আজ বড় ধাক্কা লেগেছে। বেঞ্চমার্ক সূচক BSE সেনসেক্স দিনের মধ্যে প্রায় ১,৪০০ পয়েন্ট পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। আর বাজার মূলধন থেকে প্রায় ৭.৫ লক্ষ কোটি টাকা উধাও হয়ে গেছে। একই সঙ্গে NSE সূচক নিফটি৫০-এও তীব্র পতন লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা থেকে শুরু করে তেলের দাম, সুদের হারসহ একাধিক কারণ একসাথে এই পতনের জন্য দায়ী। তবে বাজারে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনাকে ঘিরে।
সম্ভাব্য সংঘাতের সম্ভাবনায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে টাকা তুলে নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে যেতে শুরু করেছেন। এই ধরনের বৈশ্বিক আতঙ্কের পরিস্থিতিতে ভারতের মতো উদীয়মান বাজারেও দ্রুত বিক্রি বাড়ে এবং বাজারে চাপ তৈরি হয়। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত যেহেতু বড় তেল আমদানিকারক দেশ, তাই তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতি এবং কোম্পানির খরচ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্কতা বেড়ে যায় এবং শেয়ার বিক্রি বাড়ে।
মার্কিন সুদের হার নিয়েও অনিশ্চয়তা বাজারে চাপ তৈরি করেছে। সুদ দীর্ঘদিন বেশি থাকলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারের বদলে বন্ড বা নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁকেন। মার্কিন সুদনীতি নির্ধারণ করে ফেডারেল রিজার্ভ এবং তাদের নীতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা বিশ্ববাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে। দেশীয় কারণও ছিল। টানা কয়েকদিন বাজার বাড়ার পরে অনেক বড় বিনিয়োগকারী লাভ তুলে নিয়েছেন, যাকে প্রফিট বুকিং বলা হয়। এতে বিক্রির চাপ আরও বেড়ে যায়।
ব্যাংকিং, ফাইন্যান্স, IT এবং মিডক্যাপ-স্মলক্যাপ—প্রায় সব সেক্টরেই পতন দেখা গেছে, যা বোঝাচ্ছে বাজারের দুর্বলতা ছিল বিস্তৃত। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের পতন হঠাৎ ঘটলেও সবসময় দীর্ঘমেয়াদি ট্রেন্ড বদলে দেয় না। গ্লোবাল পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বাজার আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদে ভোলাটিলিটি থাকতে পারে এবং বিনিয়োগকারীদের আন্তর্জাতিক খবর, তেলের দাম ও সুদের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখা দরকার।




