Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের শেয়ারবাজারে সম্প্রতি ট্রেডিং সেশনে বিদেশী পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারী বা FII/FPIs উল্লেখযোগ্যভাবে ভারতীয় ইক্যুইটে প্রায় ৩,৪৮৩ কোটি টাকার নেট ক্রয় করেছেন। অন্যদিকে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা DII-রা একই সময়ে প্রায় ১,২৯২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। ফলে বাজারে একদিকে বিদেশি আস্থা বাড়ার ইঙ্গিত মিললেও, অন্যদিকে দেশীয় ফান্ডগুলোর সতর্ক অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক সুদের হার পরিস্থিতি, ডলারের গতিবিধি এবং ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সম্ভাবনা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতমুখী করেছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং, IT এবং বড় লার্জ-ক্যাপ শেয়ারগুলোতে বিদেশি ফান্ডের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখেই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেন, তাই তাদের এই কেনাকাটা বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে।
অন্যদিকে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, যার মধ্যে মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ইনস্যুরেন্স কোম্পানি ও ব্যাংক অন্তর্ভুক্ত, কিছু লাভ তুলে নেওয়ার কৌশল নিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক বাজারে ওঠানামা এবং কিছু সেক্টরে উচ্চ মূল্যায়নের কারণে তারা আংশিক প্রফিট বুকিং করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় বাজারে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের এই বিপরীতমুখী পদক্ষেপ খুব অস্বাভাবিক নয়। অনেক সময় বিদেশি ফান্ড কেনে যখন দেশীয় ফান্ড বিক্রি করে। এতে বাজারে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং বড় ধাক্কা এড়ানো যায়।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা নজর রাখছেন মুদ্রাস্ফীতি, সুদের হার, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্পোরেট আয়ের ওপর। এসব ফ্যাক্টরই আগামী দিনে বিদেশি ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রবাহের দিক নির্ধারণ করবে।




