Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে ই-কমার্সের দ্রুত বিস্তারের ফলে এখন নতুন ব্র্যান্ড তৈরি ও জনপ্রিয় হতে আগের তুলনায় অনেক কম সময় লাগছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে যেখানে একটি ভোক্তা ব্র্যান্ডকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত হতে ১৫-২০ বছর সময় লাগতো; এখন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ডিরেক্ট-টু-কনজিউমার বিক্রির কারণে সেই সময় কমে কয়েক বছরের মধ্যেই বড় ব্যবসা দাঁড় করানো সম্ভব হচ্ছে। আর এই পরিবর্তনের একটি বড় উদাহরণ হলো ACC Farms (আচে ফার্মস)।
খাদ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের এই ব্র্যান্ড মাত্র সাত বছরের মধ্যে প্রায় ১০০ কোটি টাকার রাজস্ব অর্জন করেছে। কোম্পানির সাফল্যের পেছনে প্রধান শক্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার। যেখানে তারা সরাসরি গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীর খরচ কমিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে এখন ছোট কোম্পানিও সারা দেশে দ্রুত পণ্য বিক্রি করতে পারে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্র্যান্ডের পরিচিত কয়েক মাসের মধ্যেই বহু গুণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে নতুন কোম্পানিগুলো কম বিনিয়োগেই দ্রুত গ্রাহকভিত্তি বা কাস্টমার রিলেটেড তৈরি করতে পারছে।
আচে ফার্মের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে যে তারা প্রথম থেকেই অনলাইন-ফার্স্ট স্ট্রেটিজি গ্রহণ করে নেয়। গ্রাহকদের চাহিদা বিশ্লেষণ, দ্রুত ডেলিভারি এবং পণ্যের গুনমাণ বজায় রাখার মাধ্যমে তারা ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে। পাশাপাশি সরাসরি গ্রাহকদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার কারণে পণ্যের উন্নয়ন ও নতুন প্রোডাক্ট দ্রুত লঞ্চ করাও সম্ভব হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে যেসব কোম্পানি শুরু থেকেই ডিজিটাল ও অনলাইন কৌশলকে গুরুত্ব দেবে, তারাই সবচেয়ে দ্রুত বাজারে জায়গা করে নিতে পারবে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, ভারতের ক্রমবর্ধমান ইন্টারনেট ব্যবহারকারী সংখ্যা, ডিজিটাল পেমেন্টের সহজলভ্যতা এবং শহরের বাইরে অনলাইন শপিংয়ের প্রসার – এই তিনটি কারণ নতুন ব্র্যান্ডের বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে আরও অনেক স্টার্টআপ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বড় আয়ের স্তরে পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ বলা চলে যে আচে ফার্মের এই সাফল্য শুধু একটি কোম্পানির বৃদ্ধি নয়, বরং ই-কমার্স যুগের ব্যবসার ধরণ কত দ্রুত বদলাচ্ছে তার একটি উদাহরণ।




