Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় শেয়ার বাজারে ১৫ মে দেখা গেলো মিশ্র বিনিয়োগ প্রবণতা। বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা FII / FPI বাজারে ফের আস্থা ফিরে পাওয়ার সাথে সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং ডে তে প্রায় ১,৩২৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে। অন্যদিকে দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বা DII প্রায় ১,৯৫৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার পর বিদেশী বিনিয়োগকারীদের এই লেনদেন বাজারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। বিশেষ করে IT, ব্যাংকিং এবং লার্জ ব্লু-চিপ শেয়ারে বিদেশী ফান্ড কিছুটা বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে ১৫মে, ২০২৬-এ দিনের শেষের দিকে BSE সূচক সেনসেক্স সামান্য পতনের সঙ্গে লেনদেন বন্ধ করে। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ সূচক নিফটি৫০-ও চাপের মুখ ছিল শেষে। বাজারে মুনাফা বুকিংয়ের পাশাপাশি রুপির দুর্বলতাও বিনিয়োগকারীদের চিন্তা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের চিন্তা বাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে বিদেশী বিনিয়োগের প্রবাহ, মার্কিন ফেডের নীতি এবং অপরিশোধিত তেলের দামের প্রবণতা ও গতিপথ ভারতীয় বাজারের পরবর্তী দিক নির্ধারণ করবে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মে FIIs মোট ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি শেয়ার কেনে এবং প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে। ফলে নিট বিনিয়োগ দাঁড়ায় ১,৩২৯ কোটি টাকা। অন্যদিকে DIIs, অর্থাৎ দেশীয় মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বিমা সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি বড় অঙ্কের মুনাফা বুকিং করেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা, অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মার্কিন সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ এখনও বাজারে চাপ তৈরি করছে। সেই কারণে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলি কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
তবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফের কেনাকাটা শুরু হওয়াকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ ২০২৬ সালের শুরু থেকে FIIs ভারতীয় বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা তুলে নিয়েছিল। সাম্প্রতিক এই ক্রয় প্রবণতা যদি কয়েক দিন ধরে বজায় থাকে, তাহলে বাজারে নতুন করে ইতিবাচক গতি ফিরতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।




