Article By – সুনন্দা সেন

আজ (২৩এপ্রিল, ২০২৫) ইক্যুইটি বেঞ্চমার্ক সূচকগুলি তীব্রভাবে পতনের সম্মুখীন হয়েছে। প্রাথমিক লাভগুলি হারিয়ে বর্তমানে পতনের দিকে অগ্রসর। কারণ ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাজারের অস্থিরতার হঠাৎ বৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক তৈরী করছে। ইতিবাচক বৈশ্বিক ইঙ্গিত অনুসরণ করে সকালে লেনদেনে উর্ধ্বমুখী BSE সেনসেক্স তার গতিপথ পরিবর্তন করে এবং দিনের সর্বোচ্চ স্তরের থেকে ৭০০ পয়েন্টেরও বেশি খুইয়ে ফেলেন। বিস্তৃত বিক্রির মধ্যে নিফটি ২৪,১৫০ স্তরের নীচে অবস্থান করছে। আজকের বাজারে তীব্র বিক্রির পেছনে মূল কারণ হলো:
- বাজার অস্থিরতার পরিমাপক ইন্ডিয়া VIX ৪.৪২% বেড়ে ১৫.৯০-এ দাঁড়িয়েছে। যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাড়তে থাকা উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়। VIX-এর উচ্চতর সূচক সাধারণত ইক্যুইটিতে অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি বিমুখতা (Risk Aversion)-এর সাথে সম্পর্কিত। তাই ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে ওঠেন এবং ফ্রন্টলাইন স্টকগুলিতে প্রফিট বুকিং শুরু করেন।
- গুরুর দিকে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রূপির মূল্য ১৫ পয়সা কমে ৮৫.৩৪ টাকায় দাঁড়ায়। আর এটি হয়েছে ট্রাম্পের মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে তার বক্তব্যে নমনীয়তা আনা এবং চীনের সাথে শুল্কের ক্ষেত্রে নমনীয়তার ইঙ্গিত দেওয়ার পর। কারণ তারপরে ডলার সূচক আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করে ডলার সূচক ৯৯.২৮-এ পৌঁছেছে। দুর্বল রুপির প্রভাব ইম্পোর্ট হেবি সেক্টরগুলিতে পড়ে এবং বিদেশী বিনিয়োগ বহির্গমন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করে।
- আজ ব্রেন্ট ক্রড ওয়েলে ফিউচারের দাম ০.৬৭% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৬৭.৮৯ ডলার দাঁড়িয়েছে। ইরানের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নতুন দফা, মার্কিন অপোরিশোধিত তেলের মজুদের পতন এবং ফেডারেল রিজার্ভ সম্পর্কে ট্রাম্পের নেতিবাচক ইঙ্গিতের মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। ভারতের চাহিদার প্রায় ৮৫% আমদানি করে। অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে যারা তেল আমদানি বেশি করে তাদের চলতি হিসাবের ঘাটতি আরও বাড়তে পারে, মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রুপির উপর চাপ পড়তে পারে। আর এই সবকিছুই ইক্যুইটি বাজারের জন্য নেতিবাচক।




