Article By – সুনন্দা সেন

রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) তার নভেম্বর বুলেটিনে জানিয়েছে যে বিশ্বের বিভিন্ন আর্থিক বাজারে বর্তমানে এক ধরনের ‘অতিরিক্ত উত্তেজনা (Heightened Exculeerace)’ লক্ষ্য করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, বৈশ্বিক অর্থনীতি এখনও উচ্চ সুদের হার, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ অনেক আন্তর্জাতিক বাজারে শেয়ার ও বন্ডের দামে অস্বাভাবিক র্যালি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আর এই অযৌক্তিক আশাবাদ ভবিষ্যতে বড় ধরনের কারেকশান তৈরি করতে পারে। RBI বলেছে, মার্কেটে এই ধরনের অতিরিক্ত ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বজায় থাকলে বিনিয়োগকারীদের আচরণ হঠাৎ করে বদলে যেতে পারে। এবং বিশ্ববাজারে তীব্র ওঠানামার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে ভারতের অর্থনীতি সম্পর্কে RBI তুলনামূলকভাবে বেশি আত্মবিশ্বাসী। বুলেটিন বলা হয়েছে যে দেশের মৌলিক অর্থনৈতিক ভিত্তি-চাহিদা, উৎদাদন, ব্যাংকিং, স্থিতিশীলতা এবং ক্যাপিটাল বাফার-এখনও শক্তিশালী রয়েছে। এছাড়া সরকারের উচ্চ মূলধনী ব্যয় ও RBI-এর স্থিতিশীল মুদ্রানীতি মিলিয়ে বিনিয়োগের পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় আর্থিক ব্যবস্থা বর্তমানে এমণ অবস্থানে রয়েছে, যা বাইরের আঘাতের সাথে মোকাবিলা করতে সক্ষম। RBI মনে করে, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বেড়ে গেলেও ভারতের অর্থনীতি তার অভ্যন্তরীণ শক্তি ও নীতিগত স্থিতিশীলতার কারণে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানী থাকবে।
সদ্য প্রকাশিত RBI-এর সতর্কবার্তার মূল বার্তা হল, বিশ্ববাজারের অতিরিক্ত উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়া উচিত। আন্তর্জাতিক বাজারে কোনও বড় ধাক্কা এলে তার প্রতিফলন ভারতের বাজারেও দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহে ওঠানামা বাড়তে পারে। তবুও RBI মনে করছে যে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দৃঢ়তা বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে এবং সামগ্রিকভাবে ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা এখনও বাস্তবসম্মত। RBI-এর এই বিশদ সতর্কবার্তাটি শুধু তাৎক্ষণিক বাজার পরিস্থিতির বিশ্লেষণ নয়, এটি ভবিষ্যৎ ঝুঁকির প্রস্তুতি নেওয়ার দিকেও একটি বার্তা। বিশ্ববাজার যখন অস্বাভাবিক উত্তেজনার মধ্যে চলছে, তখন ভারতের স্টেবিলিটি ন্যারেটিভ একটি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল।




