80:20 rule, যাকে Pareto principle-ও বলা হয়, আসলে একটি সর্বজনবিদিত নিয়ম যা শুধুমাত্র অর্থনীতিতেই ব্যবহার হয় না, পাশাপাশি ব্যবসা, স্বাস্থ্য, পারসোনাল ডেভেলপমেন্টের মতো একাধিক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।
এই নিয়মটির মূল কথা হল যা কিছু ঘটে তার 80%-এর জন্য দায়ী থাকে 20% কারণ বা ইনপুট। অর্থাৎ 20% কোনো কারণের জন্য 80% ঘটনা ঘটে। এই পদ্ধতিটিকে যদি পারসোনাল ফিনান্সের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায় তাহলে অভূতপূর্ব ফল হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই নিয়মটি কী।
Pareto principle কী?
ইটালির এক অর্থনীতিবিদ ভিলফ্রেডো প্যারেটো (Vilfredo pareto)-র নামানুসারে এই নিয়মটির নাম রাখা হয়েছে Pareto principle। অর্থনীতিবিদ প্যারেটো ১৯ শতকের শেষের দিকে দেখেছিলেন ইটালির মোট ল্যান্ড বা ভূমির 80% কিনেছে ইটালির মোট জনসংখ্যার মাত্র 20% মানুষ। অর্থাৎ অন্যভাবে বলতে হলে জনসংখ্যার 20% মানুষের অধীনে ছিল ইটালির 80% ল্যান্ড। ধীরে ধীরে এই নিয়মটি অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে থাকল। অর্থনীতিতে এই নিয়মটি বোঝায় যে, চেষ্টা, বা বিনিয়োগ বা সিদ্ধান্তের পরিমাণ যদি সামান্যও হয়, তা হলেও তার থেকে যে আর্থিক ফলাফল পাওয়া যাবে তার গুরুত্ব অনেকখানি হবে।
যেমন, আপনার মোট বিনিয়োগের মাত্র 20% থেকে মোট রিটার্নের 80% জেনারেট করা সম্ভব।
আবার, আপনার খরচের 20% আপনার মোট অযাচিত খরচের 80%-এর জন্য দায়ী থাকতে পারে। বা যদি আপনি একজন বিজনেসের মালিক হন তাহলে আপনার 20% ক্লায়েট মোট আর্নিং-এর 80% আর্নিং আনতে পারে।
কীভাবে 80-20 rule-এর সুবিধা পাবেন?
→ নিজের গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎসগুলি খুঁজুন: প্রথমেই আপনার আয়ের উৎস খোঁজার চেষ্টা করুন। যদি আপনি একজন বেতনভোগী হন, দেখবেন আপনার কোনো একটি skill বা কোনো বিশেষ একটি সার্টিফিকেট আপনার বেশিরভাগ আয়ের জন্য দায়ী। আবার যদি আপনি একজন উদ্যোগপতি হন, দেখবেন নির্দিষ্ট কিছু প্রোডাক্ট, পরিষেবা বা নির্দিষ্ট কয়েকজন ক্লায়েন্টের মাধ্যমে বেশিরভাগ রেভিনিউ আসছে। কীভাবে নিজের আর্নিংগুলি মূল্যায়ন করবেন? কোনো financial software বা spreadsheet-এর মতো টুল ব্যবহার করা যেতে পারে। আপনার আয়ের উৎস বা source of income বাড়াতে সেই 20% skill, ক্লায়েন্ট, প্রোডাক্ট বা পরিষেবার উপর বেশি করে সময় দিন, এবং upskill করুন। যেমন, যদি দেখা যায় আপনার আয়ের একটা বড় অংশের কারণ আপনার photo editing skill, তাহলে সেই ক্ষেত্রে নিজেকে upskill করুন।
→ অপ্রয়োজনীয় খরচ কমান: সব খরচের পরিমাণ সমান হয় না। দেখা যেতেই পারে অল্প পরিমাণ কোনো ব্যয় আপনার আর্থিক পরিস্থিতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এই খরচগুলি খুঁজে বের করতে প্রয়োজন যথার্থ বাজেট।
প্রয়োজনীয় যেমন মুদি, বিল ইত্যাদি খরচ এবং অপ্রয়োজনীয় যেমন OTT সাবস্ক্রিপশন বা রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া ইত্যাদি খরচ–
এই খরচ দুটি আলাদা ক্যাটাগরিতে উল্লেখ করুন। এবার সেই অপ্রয়োজনীয় খরচগুলি বের করুন যেগুলির জন্য বেশি অর্থ খরচ হচ্ছে যেমন একাধিক OTT subscription, online food app ইত্যাদি কমানোর চেষ্টা করুন। সেই অর্থ বিনিয়োগ করুন বা এমারজেন্সি ফান্ডে রাখতে পারেন।
→ ভালো রিটার্ন দিচ্ছে এমন বিনিয়োগ: সব বিনিয়োগ থেকে সমান বা ভালো রিটার্ন আশা করা যায় না। এখানেও 80-20 rule অ্যাপ্লাই করুন এবং সেইসব বিনিয়োগে বেশি নজর দিন। এর অর্থ এমন নয় যে ডাইভারসিফিকেশন বন্ধ করে একই ধরনের বিনিয়োগ বাড়িয়ে যাবেন, বরং যে অ্যাসেটগুলি ভালো ফলাফল করছে সেগুলির প্রতি জোর দেওয়া দরকার। যেমন স্টক অথবা মিউচ্যুয়াল ফান্ড কিংবা রিয়াল এস্টেট বা ETF কোন বিনিয়োগ বেশ ভালো রিটার্ন দিচ্ছে দেখুন সেইসব অ্যাসেট অ্যালোকেশন বাড়িয়ে underperformance দিচ্ছে এমন অ্যাসেটে অ্যালোকেশন কমান।
→ ঋণ নিয়ন্ত্রণ: ঋণ বা debt আর্থিক সাফল্যের মাঝে এক বড় বাধা। Pareto-র 80-20 rule অনুযায়ী মোট ঋণের সেই 20%-এর উপর বেশি নজর দিন যেগুলির সুদের হার বেশি, কারণ সেগুলিই সম্ভবত আপনার মোট আর্থিক চাপের 80%-এর দায়ী। আপনাকে প্রথমেই নিজের সমস্ত ঋণ বা debt-এর হিসেবে জানতে হবে। এর মধ্যে ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ, গৃহঋণ ইত্যাদি যাবতীয় ঋণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এবার এই ঋণগুলির মধ্যে যেগুলির সুদের হার বেশি সেগুলি আগে পরিশোধের চেষ্টা করুন।
এইভাবেই বহু ক্ষেত্রে 80-20 rule ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এই নিয়ম সকলের জন্য সমানভাবে কার্যকর নয়। আর্থিক ক্ষেত্রে এই নিয়মটির ব্যবহার আপনার চেষ্টাকে সহজতর করবে।





