Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের কর্পোরেট খাত থেকে এলো বড় ইতিবাচক সংকেত। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে রাজস্ব বৃদ্ধি গত ১২টি ত্রৈমাসিকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই সময়ে বেসরকারি নন-ফাইনান্সিয়াল ইন্ডিয়া ইনকর্পোরেটেডের কোম্পানিগুলির সম্মিলিত রাজস্ব বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১০%- এর থেকেও কিছু বেশি। যা সাম্প্রতিক বছরগুলির তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
RBI- এর তথ্য অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে উৎপাদন খাত। বিশেষ করে অটোমোবাইল, ইলেকট্রিক্যাল মেশিনারি এবং নন-ফেরাস মেটাল ইন্ডাস্ট্রিতে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের ত্রৈমাসিকে যেখানে বিক্রি বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল, সেখানে এই ত্রৈমাসিকে দ্বি-অঙ্কের প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশীয় চাহিদা শক্তিশালী রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে রপ্তানিও সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। উৎপাদনের পাশাপাশি পরিষেবা ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলির বিক্রি আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। নন-IT সার্ভিস খাতেও স্থিতিশীল বৃদ্ধি বজায় রয়েছে। যদিও এই খাতগুলির প্রবৃদ্ধি উৎপাদনের মতো তীব্র নয়, তবুও ধারাবাহিক উন্নতি সামগ্রিক কর্পোরেট পরিবেশের পক্ষে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাজস্ব বৃদ্ধির বিপরীতে মুনাফার চিত্র তুলনামূলকভাবে মিশ্র। নেট মুনাফা বৃদ্ধি পেলেও তার হার রাজস্ব বৃদ্ধির তুলনায় কম। ২০২৬ সালে এই প্রবণতা কতটা টেকসই হবে, তা নির্ভর করবে দেশীয় চাহিদা, নীতি সহায়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশের উপর।
কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং কর্মচারী ব্যয়ের চাপ অনেক সংস্থার মার্জিন কমিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ, বিক্রি বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু বাড়তি খরচের কারণে লাভের হার সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১২টি ত্রৈমাসিকের সর্বোচ্চ রাজস্ব বৃদ্ধি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা। এটি দেখায় যে কর্পোরেট খাত ধীরে ধীরে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরছে। তবে সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ—বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হারের পরিবর্তন, কাঁচামালের দামের ওঠানামা এবং আন্তর্জাতিক চাহিদার গতি।




