Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার (Indian Foreign Exchange Reserves)-এ বড় ধস নেমেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশের ফরেক্স রিজার্ভ প্রায় ৯.৮ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৮৬.৮ বিলিয়ন ডলারে। এটি গত এক বছরেও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বড় পতনের অন্যতম প্রধান কারণ হলো রুপির অস্থিরতা সামাল দিতে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI-এর বাজারে হস্তক্ষেপ।
সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি ফান্ডের বহিঃপ্রবাহ বেড়েছে এবং ডলারের বিপরীতে রুপির উপর চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুপিকে স্থিতিশীল রাখতে RBI ডলার বিক্রি করেছে, যার প্রভাব সরাসরি ফরেক্স রিজার্ভে পড়েছে। সাথে ফরেক্স রিজার্ভের মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে থাকা ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটস (FCA) উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার কারণে গোল্ড রিজার্ভের মূল্যেও সামান্য হ্রাস দেখা গেছে। এর ফলেই সামগ্রিকভাবে রিজার্ভে এত বড় পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, এই পতন চোখে পড়ার মতো।
আরও জানা যাচ্ছে যে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডারের পরিমাণ এখনও তুলনামূলকভাবে পক্ত অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান রিজার্ভ প্রায় এক বছরের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট, যা দেশের বৈদেশিক আর্থিক স্থিতিশীলতার পক্ষে ইতিবাচক দিক। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পতন গঠনগত দুর্বলতার ইঙ্গিত নয়, বরং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যে রুপিকে স্থিতিশীল রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কৌশলগত পদক্ষেপের ফল। আগামী সপ্তাহগুলিতে বৈদেশিক বিনিয়োগের গতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে ফরেক্স রিজার্ভের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশ। সংক্ষেপে বলা যায়, এক সপ্তাহে বড় পতন হলেও ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভাণ্ডার এখনও স্বস্তিদায়ক অবস্থানেই রয়েছে, এবং RBI পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে।




