Article By – সুনন্দা সেন

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে ভারতীয় রুপির ওপর আবার চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আজ রুপি ডলারের বিপরীতে দুর্বল অবস্থায় লেনদেন শুরু করেছে। সোমবার রুপি ৯৬.৪৪৫০-এ বন্ধ হলেও দিনের মধ্যে তা দুই মাসের মধ্যে প্রথমবার ৯৬.৫০-এর নীচে নেমে গিয়েছিল। পরে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার বা RBI-এর হস্তক্ষেপ কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। আজ সকালে রুপি ডলারের বিপরীতে লেনদেনে ৬ পয়সা কমে ৯৬.৪২-এ পৌঁছেছিল।
রুপির ওপর এই চাপের মূল কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি। ভারত যেহেতু তার প্রয়োজনীয় তেলের বড় অংশ আমদানি করে তাই তেলের দাম বাড়লে বেশি ডলার খরচ করতে হয়। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে রুপির ওপর। এদিকে RBI জানিয়েছে, গত মাসে নেওয়া পদক্ষেপের ফলে ভারতের ব্যালান্স অফ পেমেন্টস শক্তিশালী করতে এবং বিদেশী মূলধন আকর্ষণে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ এসেছে, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মূলধন প্রবাহ স্বল্পমেয়াদে রুপিকে শক্তিশালী করার জন্য যথেষ্ট নয়। এমনকি ডেরিভেটিভস বাজারের ইঙ্গিত ও রুপির জন্য খুব একটা ইতিবাচক নয়।
রুপির দুর্বলতা ভারতের অর্থনীতির জন্য বড় উদ্বেগ। ভারত তেলের বড় আমদানিকারক হওয়ায় আমদানি ব্যয় বাড়ে। ফলে জ্বালানি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়। এতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে। আমদানি নির্ভর কোম্পানির মুনাফা কমতে পারে। এমনকি শেয়ারবাজারেও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। RBI-এর মূলধন প্রবাহ কিছুটা সমর্থন করলেও তেলের উচ্চ দাম রুপির ওপর চাপ বজায় রেখে। যদিও রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি ডলারে বেশি আয় পাওয়ায় কিছু লাভবান হয়, তবুও রুপির অবমূল্যায়নে আর্থিক বাজারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।




