Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিষয় নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, তা হলো উচ্চ-ক্রেডিট ডিপোজিট রেসিও। অর্থাৎ ব্যাংকে জমা দেওয়া টাকার তুলনায় ঋণ বা লোন বিতরণের হার দ্রুত বেড়ে চলেছে। যে কারণে প্রশ্ন উঠছে, এমন পরিস্থিতি কি ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলছে, নাকি এটি অর্থনীতির স্বাভাবিক ও দক্ষ বৃদ্ধির ইঙ্গিত? বর্তমানে এই অনুপাত অনেক ব্যাংকের ক্ষেত্রেই ঐতিহাসিক ভাবে গড়ের তুলনায় বেশ উচুঁতে রয়েছে। আর এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে কর্পোরেট ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের প্রত্যাবর্তন এবং রিটেইল লোনের দ্রুত বিস্তার।
ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই উচ্চ রেসিও আসলে ব্যাংকগুলির উন্নয়ন দক্ষতা ও ঝুঁকি (Risk) ব্যবস্থাপনার প্রতিফলন। গত কয়েক বছরে NPA বা Unpaid debt (অনাদায়ী ঋণ)-এর বোঝা অনেকটাই কমেছে। সাথে ব্যালেন্স শিট ক্লিয়ার হওয়ায় বেশকিছু ব্যাংক এখন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঋণ প্রদান করতে পারছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রুক্তি ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের ফলে ঋণ মূল্যায়ন (Loan Evaluation) আরও নির্ভুল হয়েছে। তবে অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক সতর্কতার কথাও বলছেন। তাদের মতে, আমানত বৃদ্ধির গতি যদি ঋণ বৃদ্ধির তুলনায় ধীর হয়, সেক্ষেত্রে তারল্য সংকটের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। এছাড়া উচ্চ ক্রেডিট-ডিপোজিট রেসিও মানে ব্যাংকের হাতে উদ্বৃত্ত নগদ কম থাকা, যা হঠাৎ চাপ এলে সমস্যার কারণ হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলি আমানত টানতে ডিপোজিটের সুদের হার বাড়াচ্ছে, যার ফলে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে। এতে একদিকে আমানত বাড়লেও, অন্যদিকে ব্যাঙ্কের তহবিলের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ঋণের সুদের হারকে প্রভাবিত করতে পারে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়াও এই বিষয়টির উপর কড়া নজর রাখছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, যতদিন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ উৎপাদনশীল খাতে হচ্ছে এবং ব্যাঙ্কগুলির মূলধন পর্যাপ্ত রয়েছে, ততদিন উচ্চ ক্রেডিট-ডিপোজিট রেশিও খুব বড় উদ্বেগের কারণ নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে ডিপোজিট বৃদ্ধির সঙ্গে ক্রেডিট বৃদ্ধির ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।




