Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের আর্থিক ব্যবস্থায় বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে। দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া আগামী অর্থবছরে বা ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাজারে প্রায় ৫ লক্ষ কোটি টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত তারল্য বা লিক্যুইডিটি ইনজেক্ট করতে পারে বলে রিপোর্টে জানা গেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থপ্রবাহ বাড়ানো, সুদের চাপ কমানো এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করা। সূত্রের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং সিস্টেমে তারল্য কিছুটা টানাটানি অবস্থায় রয়েছে।
ঋণের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু বাজারে নগদের সরবরাহ সেই অনুপাতে বাড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে RBI বিভিন্ন নীতি-উপকরণ ব্যবহার করে ধাপে ধাপে অর্থ ইনজেক্ট করতে পারে। যার মধ্যে থাকতে পারে ওপেন মার্কেট অপারেশন বা সরকারি বন্ড কেনা, দীর্ঘমেয়াদি রেপো অপারেশন এবং প্রয়োজনে বিশেষ লিক্যুইডিটি স্কিম। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর হাতে অতিরিক্ত নগদ পৌঁছাবে, ফলে তারা সহজে ঋণ দিতে পারবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে বড় অঙ্কের তারল্য ঢুকলে সাধারণত ব্যাংকের ফান্ডিং খরচ কমে যায়। এতে হোম লোন, গাড়ি লোন কিংবা ব্যবসায়িক ঋণের সুদের হার কিছুটা কম হতে পারে।
একই সঙ্গে শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হতে পারে, কারণ সস্তা অর্থ বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পদক্ষেপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে স্থিতিশীল রাখা। বিশ্ব অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক সুদের ওঠানামা এবং পুঁজির প্রবাহের পরিবর্তনের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থপ্রবাহ শক্ত রাখা জরুরি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, অতিরিক্ত লিক্যুইডিটি বাড়ালে মুদ্রাস্ফীতির ওপর নজর রাখতে হবে। যদি বাজারে অর্থ খুব বেশি বেড়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধির চাপও তৈরি হতে পারে। তাই RBI সাধারণত ধাপে ধাপে পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।




