Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের কাগজের নোট কি এবার ধীরে ধীরে জায়গা ছাড়বে প্লাস্টিকের নোটকে? সেই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করলো রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI। দেশের কারেন্সি প্রিন্টিং সংস্থা BRBNMPL এবার আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির কাছ থেকে বিশেষ ধরনের পলিমার বা প্লাস্টিক সাবস্ট্রেট সরবরাহের জন্য দরপত্র জারি করেছে। আর এই পদক্ষেপকে ভারতে মুদ্রা ব্যবস্থার বড় পরিবর্তনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে ভারতে প্রায় এক শতাব্দী ধরে বিশেষ ধরনের কাগজে নোট ছাপা হয়। কিন্তু নতুন পরিকল্পনায় সেই কাগজের বদলে ব্যবহার হতে পারে BOPP ভিত্তিক পলিমার সাবস্ট্রেট।
সূত্রের খবর, পরীক্ষামূলক ভাবে প্রথম পর্যায়ে ১০ ও ২০ টাকার নোটে এই প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে। যদিও RBI এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মূল্যমান (Value) ঘোষণা করেনি। তবে এটা ঠিক যে প্রথমে ফিল্ড ট্রায়াল হবে। তারপর তার ফলাফল বা রেজাল্ট পর্যলোচনা করে বড় আকারে চালু হবে কিনা তা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর যদি সফল হয় প্রযুক্তিটি, সেক্ষেত্রে ২০২৭ সাল থেকে ধাপে ধাপে আরও ভ্যালুয়েবল নোটেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার হতে পারে। তবে এই পর্যন্ত এই সবই অনুমানের অংশ, কারণ এখন RBI বা কেন্দ্র সরকার অফিসিয়াল ভাবে কিছু জানায়নি।
RBI-এর পলিমার বা প্লাস্টিক নোট চালুর উদ্যোগ সফল হলে ভারতের কারেন্সি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক সাশ্রয় হতে পারে। কারণ এই নোট সাধারণ কাগজের নোটের তুুলনায় অনেক বেশি টেকসই হওয়ায় বারবার নোট ছাপানোর খরচও কমবে। পাশাপাশি এই প্রকল্পের মাধ্যমে সিক্যিউরিটি প্রিন্টিং, বিশেষ পলিমার উপাদান ও ব্যাংকনোট প্রযুক্তি শিল্পে বা টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার অপরচ্যুনিটি তৈরি হতে পারে। যার ফলে এটি শুধু মুদ্রা সাশ্রয় ও আর্থিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করার দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।




