Article By – সুনন্দা সেন

বিলিয়নার শিল্পপতি গৌতম আদানিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এক প্রকল্পে ২৬৫ ডলারের ঘুষ ও জালিয়াতি করার অভিযোগ এনেছে। মার্কিন পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন যে গৌতম আদানি, সাগর আদানি এবং তার অন্যান্য ছয় সমর্থক ২০ বছরে ২ বিলিয়ন ডলার লাভের সৌরশক্তি সরবরাহ চুক্তি সুরক্ষিত করার জন্য ভারত সরকারের কর্মকর্তাদের ঘুষ দিয়েছেন। আদানি এবং অন্যদের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক US সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা SEC এবং ফরেন করাপ্ট প্র্যাকটিস অ্যাক্ট বা FCPA লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
একটি অফিসিয়াল প্রেস বিজ্ঞতিতে আরও তুলে ধরা হয়েছে যে এই প্রকল্পের জন্য আদানি গ্রীন মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ১৭৫ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি সংগ্রহ করেছে। আর অজার (Azure) পাওয়ারের স্টক নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন করেছে। পাশাপাশি আরও জানা যাচ্ছে যে অভিযোগ উঠেছে আদানি গ্রীনের ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে একটি নোট অফার করার সময় ঘুষ দেওয়া হয়েছিল যা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার সহ ৭৫০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছিল। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আদানি গ্রীনের অফার করা সামগ্রীতে দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টা সম্পর্কে মিথ্যা দাবি রয়েছে, যার ফলে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের প্রতারিত হয়েছে।
SEC – এর আরও একটু অভিযোগ হলো যে অজার পাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদের প্রাক্তন সদস্য সিরিল ক্যাবনেস ঘুষ প্রকল্পে জড়িত ছিলেন। গুরুগ্রামে অবস্থিত অজার হল আরেকটি ভারতীয় শক্তি সংস্থা। তাই SEC বলেছে, “কথিতভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবং বিদেশে থাকাকালীন স্কিমটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য ক্যাবেনস ঘুষের অনুমোদনের সুবিধা দিয়েছে। সাথে জানা যাচ্ছে যে গৌতম আদানি এবং সাগর আদানি বাদে এই অভিযোগের আঙুল উঠেছে আরও ছয় জনের বিরুদ্ধে। আর তারা হলেন :
- অজার পাওয়ার গ্লোবালের প্রাক্তন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) রঞ্জিত গুপ্ত।
- অজার পাওয়ার গ্লোবালের প্রাক্তন প্রধান কৌশল এবং বাণিজ্যিক কর্মকর্তা রূপেশ আগরওয়াল।
- অজার পাওয়ার গ্লোবালের পরিচালনা পর্ষদের প্রাক্তন সদস্য সিরিল ক্যাবনেস।
- অজার পাওয়ার গ্লোবালের এক্সিকিউটিভ ভনীত জৈন।
- সৌরভ আগরওয়াল
- দীপক মালহোত্রা
এর প্রভাব দেখা গেছে ভারতীয় শেয়ার বাজারে। আজ সকালে আদানি গোষ্ঠীর তিনটি প্রধান স্টকে ২০% পতন লক্ষ্য করা গেছে। আর মোট ১১টি আদানি স্টকের সম্মিলিত বাজার মূলধন প্রায় ২.২৫ লক্ষ কোটি টাকা কমে ১২ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। যা ২০২৩ সালের শুরুতে হিন্ডেনবার্গ বোমাশেলের পর থেকে সংগঠনটির সবচেয়ে খারাপ ব্যবসায়িক দিনকে চিহ্নিত করে৷




