Article By – আস্তিক ঘোষ

মিডিয়া সম্পদ একত্রীকরণ করার ঘোষণা রিলায়েন্স এবং বিনোদন কোম্পানি ওয়াল্ট ডিজনির। একত্রীকরণের পরে গঠিত সংস্থাটি হবে দেশের বৃহত্তম বিনোদন সংস্থা, যার মূল্য হবে প্রায় 8.5 বিলিয়ন ডলার। কিন্তু কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া বিষয়টির প্রাথমিক মূল্যায়নে জানিয়েছে, এই একত্রীকরণ দেশের প্রতিযোগিতার ক্ষতি করবে। কারণ ক্রিকেট সম্প্রচারের অধিকারে আধিপত্য বিস্তার করে এই সংস্থাগুলি। রিলায়েন্স এবং ওয়াল্ট ডিজনির মিডিয়া এবং বিনোদন সংস্থাগুলির একত্রীকরণ হওয়ার পরে গঠিত সংস্থাটিতে 120টি টিভি চ্যানেল এবং দুটি স্ট্রিমিং পরিষেবা থাকবে। এরপর মুকেশ আম্বানির কোম্পানির সরাসরি প্রতিযোগিতা হবে জি এন্টারটেইনমেন্ট, নেটফ্লিক্স এবং অ্যামাজনের সঙ্গে।
সূত্রের খবর, ব্যক্তিগতভাবে একটি নোটিশের মাধ্যমে ডিজনি এবং রিলায়েন্সকে তার উদ্বেগ জানিয়ে দিয়েছে কম্পিটিশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া। আগামী 30 দিনের মধ্যে এই কোম্পানিগুলিকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে কমিশন। অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্রিকেটই সিসিআইয়ের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। একীভূত কোম্পানিতে রিলায়েন্সের নিয়ন্ত্রণ থাকবে। টিভি এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ক্রিকেট সম্প্রচারের জন্য এটির বিলিয়ন ডলার মূল্যের অধিকার থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি দাম নির্ধারণের ক্ষমতা পাবেন। এছাড়া বিজ্ঞাপনদাতারাও থাকবেন তাঁর কবলে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত সিসিআই।
যদিও রিলায়েন্স, ডিজনি এবং সিসিআই বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরআইএল এবং ডিজনি চ্যানেল কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে সিসিআই ব্যক্তিগতভাবে রিলায়েন্স এবং ডিজনির সঙ্গে সংযুক্তি সম্পর্কিত প্রায় 100 টি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেছিল। সংস্থাগুলি নিয়ন্ত্রকদের জানিয়েছে, তারা বাজার শক্তি সম্পর্কে উদ্বেগ দূর করতে এবং দ্রুত অনুমোদন পেতে 10টিরও কম টেলিভিশন চ্যানেল বিক্রি করতে ইচ্ছুক। তবে, ক্রিকেটের ক্ষেত্রে কোনও নম্রতা দেখাতে রাজি নয় মুকেশের সংস্থাগুলি। সিসিআইকে জানান হয়েছে, সম্প্রচার এবং স্ট্রিমিং অধিকার 2027 এবং 2028 সালে শেষ হয়ে যাবে। তাই এই মুহূর্তে সংস্থাগুলি বিক্রি করা যাবে না। এই ধরনের যেকোনো পদক্ষেপের জন্য ক্রিকেট বোর্ডের অনুমোদনের প্রয়োজন। আইপিএল সহ শীর্ষ লিগের জন্য ডিজিটাল এবং টিভি ক্রিকেটের অধিকার পাবে রিলায়েন্স-ডিজনি। তবে সিসিআই বিজ্ঞপ্তি অনুমোদন প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে পারে বলে খবর।





