Article By – আস্তিক ঘোষ

ভারত থেকে সর্বাধিক সংখ্যক চিংড়ি আমদানি করে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ আমেরিকা। কিন্তু 2019 সালে, সমুদ্র থেকে চিংড়ি ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করে আমেরিকা। কারণ, ভারতে মাছ ধরার পদ্ধতির কারণে সামুদ্রিক কচ্ছপ দুর্ঘটনাবশত জালে জড়িয়ে পড়ে এবং আহত হয়। আমেরিকার এই পদক্ষেপের কারণে, গত পাঁচ বছরে ভারতের 500 মিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় 4,197 কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। তাই আমেরিকার চাহিদা অনুযায়ী মাছ ধরার পদ্ধতি পরিবর্তন করছে ভারত। এ জন্য একটি নকশা অনুমোদন করেছে আমেরিকার ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাছ ধরার নৌকায় টার্টল এক্সক্লুডার ডিভাইস (টিইডি) লাগানো হবে। এটি সামুদ্রিক কচ্ছপদের জালে আটকা পড়া থেকে রক্ষা করবে। এখন এই ডিভাইসটি ব্যবহার করার জন্য সারা দেশে প্রচার করা হবে। এ জন্য অনেকজনকে প্রস্তুত করা হয়েছে যারা সারাদেশের জেলেদের প্রশিক্ষণ দেবেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে তিমি, ডলফিনসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মসূচি তৈরির প্রয়োজন রয়েছে। তা না হলে ভবিষ্যতে সমুদ্র থেকে ধরা পড়া সব পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে পারে আমেরিকা।
ভারত থেকে সর্বাধিক পরিমাণে গলদা চিংড়ি আমদানি করে আমেরিকা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকা 2023-24 সালে ভারত থেকে 2,97,571 মেট্রিক টন চিংড়ি আমদানি করেছে। এই সময়ের মধ্যে, ভারতের সামুদ্রিক খাবার রফতানি সর্বকালের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। 2023-24 সালে 60,523.89 কোটি টাকার 17,81,602 মেট্রিক টন সামুদ্রিক খাবার রপ্তানি করেছে ভারত। আমেরিকার পর চিন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, জাপান এবং মধ্যপ্রাচ্য হল ভারতীয় সামুদ্রিক খাবারের বৃহত্তম বাজার।




