Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বিমান পরিবহন খাতে বড় উদ্যোগের ঘোষণা করেছে আদানি গ্রুপ। সংস্থাটি জানিয়েছে যে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রায় ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এই বিশাল বিনিয়োগের মাধ্যমে আদানি গ্রুপ ভারতীয় বিমানবন্দর ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের করে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। গ্রুপটি বর্তমানে দেশের একাধিক বিমানবন্দর পরিচালনা করছে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এগুলোর মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে ২০০ মিলিয়ন করার পরিকল্পনা করেছে। এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হলো নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, যা ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫–এ উদ্বোধন হওয়ার কথা।
পাশাপাশি আহমেদাবাদ, জয়পুর, তিরুবনন্তপুরম, লখনউ ও গুয়াহাটি বিমানবন্দরেও ব্যাপক সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের কাজ করা হবে। আদানি গ্রুপ জানিয়েছে, মোট বিনিয়োগের প্রায় ৭০% তোলা হবে লোনের মাধ্যমে এবং বাকিটা ইক্যুইটি আকারে। এছাড়া ভারতে দ্রুত বাড়তে থাকা বিমানযাত্রীর চাহিদাই এই প্রকল্পের মূল কারণ। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিমানযাত্রীর সংখ্যা ৩০ কোটির সীমা ছাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সেই চাহিদা সামাল দিতে এবং ভারতকে একটি বড় এভিয়েশন হাবে পরিণত করতে আদানি গ্রুপ আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে গ্রুপটির আশা করে যে বিমানবন্দরের ভেতরের আয় ছাড়াও ‘সিটি-সাইড ডেভেলপমেন্ট’, যেমন রিটেল, হোটেল, বাণিজ্যিক স্থাপনা থেকে বড় নন-এভিয়েশন আয় আসবে।
তবে সামনে বিশাল প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমতি, জমি, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং সময়মতো নির্মাণ কাজ শেষ করার মতো বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এছাড়া আরও একটি বড় ঝুঁকি হলো বিনিয়োগের বড় অংশই ঋণ নির্ভর, ফলে সুদের হার বা অর্থনৈতিক চাপ প্রকল্পের গতি কমাতে পারে। ভারতের বিমানযাত্রীর চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়লে এত বড় পরিকাঠামোর ব্যবহারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে বাজার অনুকূল না হলে ভবিষ্যতের IPO পরিকল্পনাও চাপে পড়তে পারে। তাই আগামী কয়েক মাসে নজর থাকবে নবি মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন, অন্যান্য বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ কাজের অগ্রগতি এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি সিদ্ধান্তের উপর।




