Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের রত্ন ও গয়না শিল্প (Gem and Jewellery Industry)-কে বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালী করে তুলতে এবার বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে কেন্দ্র। ২০৪০ সালের মধ্যে ভারতের জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। বর্তমানে এই খাতের রপ্তানি প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার। যার ফলে আগামী ১৪ বছরে রপ্তানি প্রায় সাড়ে তিন গুণ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। ‘চিন্তন শিবির – ২০৪০ রোডম্যাপ ফর জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি’ অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব রাজেশ আগারওয়াল জানান, এই লক্ষ্য পূরণ করতে হলে শুধুমাত্র রপ্তানির পরিমাণ বাড়ালেই হবে না। বরং ইনোভেশন, আন্তর্জাতিক মানের ডিজাইন, ব্র্যান্ডিং, প্রযুক্তি এবং ভ্যালু অ্যাডিশনের উপর জোর দিতে হবে।
সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এই ইন্ডাস্ট্রিকে ভারতের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২০৪০ সালের মধ্যে এই খাত ভারতের GDP-তে প্রায় ১.২% অবদান রাখতে পারে এবং মোট পণ্য রপ্তানিতে এর অংশ ১৪%-এ পৌঁছাতে পারে। তবে এই লক্ষ্যে পৌঁছানো সহজ নয় এবং সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদার ওঠানামা, রাশিয়ান হিরে সংক্রান্ত G7 নিষেধাজ্ঞা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত সমস্যার মতো বিষয় ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রিকে চাপের মধ্যে রেখেছে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতাই ক্রমশ বাড়ছে।
আবার নতুন বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারতের সামনে বড় সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে FTA (Free Trade Agreement)-এর সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভারতীয় জুয়েলারি রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের জুয়েলারি রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের FTA অংশীদার দেশগুলি প্রতি বছর ৫৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের জুয়েলারি আমদানি করে। অথচ সেখানে ভারতের বর্তমান রপ্তানি প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, ১০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য শুধু রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা নয়। আর এটি ভারতীয় জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিকে বিশ্বব্যাপী ডিজাইন, ব্র্যান্ড ও ভ্যালু এডেড প্রোডাক্টের বড় কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার রোডম্যাপ। কারণ ভারত ইতিমধ্যের বিশ্বের অন্যতম বড় জেমস ও গয়না উৎপাদন হিসেবে বিশ্ববাজারে অবস্থান রেখেছে।




