Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে দীর্ঘদিন ধরে দ্রুত ব্যবসা সম্প্রসারণের কৌশল অনুসরণ করার পর এবার নতুন পথে হাঁটছে অ্যামাজন (Amazon)। নতুন নেতৃত্বের অধীনে সংস্থাটি এখন আগ্রাসী বৃদ্ধির বদলে লাভজনকতা (Profitability)-কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ভারতের ই-কমার্স বাজারে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক পরিবেশও আরও জটিল হয়ে ওঠায় এই কৌশলগত পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এছাড়া প্রতিযোগিতাও বাড়ছে, আগে ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজনের মধ্যে কেবল প্রতিযোগীতা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এখন এই গ্রুপে নাম লিখিয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রি।
নানা কারণে তাই অ্যামাজনের জন্য আগের মতো বাজার দখলের লক্ষ্যে বিপুল বিনিয়োগ করে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। এছাড়া ভারতে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিদেশী ই-কমার্স সংস্থাগুলির ওপর নানা নিয়ন্ত্রক বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি লজিস্টিক খরচ, ডিসকাউন্ট নিয়ে ডিবেট এবং গ্রাহক অর্জনের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য। এই পরিস্থিতিতে অ্যামাজন খতিয়ে দেখছে কোন খাতে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভ পাওয়া যাবে। সংস্থাটি তাই শুধু বিক্রির পরিমাণ বাড়ানোর বদলে; অপারেশন দক্ষতা বৃদ্ধি, খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং লাভজনক বিভাগগুলিকে আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দিচ্ছে।
ভারতের জন্য এই পরিবর্তন বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অ্যামাজন ভারতের শেয়ার ছেড়ে যাচ্ছে না, বরং ব্যবসাকে আরও সাসটেনেবেল ও লাভজনক করার চেষ্টা করছে। তবে এর ফলে ভবিষ্যতে আগের মতো বড় আকারের ডিসকাউন্ট, অতিরিক্ত ক্যাশব্যাক বা দ্রুত সম্প্রসারণের গতি কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভারতের ই-কমার্স বাজার এখন আর শুধু গ্রাহক সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং লাভজনক ব্যবসা গড়ে তোলাই হয়ে উঠছে বড় লক্ষ্য। সাথে আগামী কয়েক বছরে এই কৌশল কতটা সফল হয়, তার ওপর ভারতের ই-কমার্স বাজারের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতার চিত্র অনেকটাই নির্ভর করবে।




