Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানি বিল ডিসেম্বর মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমে যাওয়ার প্রভাব সরাসরি পড়েছে দেশের তেল আমদানির খরচে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতের তেল আমদানি বিল বার্ষিক ভিত্তিতে প্রায় ৮.৫% হ্রাস পেয়েছে। ডিসেম্বর মাসে ভারতের মোট তেল আমদানি বিল দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ১০ থেকে ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা গত বছরের (২০২৪ সালের) একই সময়ের তুলনায় বেশ কম। আর এই পতনের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রড ও অন্যান্য বেঞ্চমার্ক তেলের দর কমে যাওয়া।
আরও জানা যাচ্ছে ওই সময়ে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি গড়ে ৭৫-৮০ ডলারের মধ্যে ছিল। যেখানে আগের বছরের দাম ছিল অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চাহিদা বৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়া এবং কিছু বড় তেল উৎপাদক দেশের উৎপাদন কৌশলের কারণে তেলের দামে চাপ তৈরি হয়েছিল। এর ফলে আমদানি নির্ভর দেশ হিসেবে ভারতের জন্য এই দাম কমার বিষয়টি স্বস্তি নিয়ে আসে। পাশাপাশি তেল আমদানি বিল কমার সবচেয়ে বড় সুফল পড়ে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট বা চলতি হিসাবের ঘাটতির উপর।
আমদানি খরচ কমলে বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমে এবং রুপির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সুবিধা হয়। পাশাপাশি সরকারের জ্বালানি ভর্তুকির বোঝা কিছুটা হালকা হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। এছাড়া, তেলের দাম কম থাকায় দেশে পরিবহন খরচ ও উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে থাকার সুযোগ তৈরি হয়, যা সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যস্ফীতির উপর চাপ কমাতে সহায়ক। বিশেষ করে খাদ্য ও ভোগ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জ্বালানি খরচের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এই সুবিধা পুরোপুরি নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের গতিপ্রকৃতির উপর। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ওপেক প্লাসের উৎপাদন সিদ্ধান্ত বা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি বাড়লে তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।




