Article By – সুনন্দা সেন

বাণিজ্য সচিব সুনীল বার্থওয়াল ১৫ সেপ্টেম্বর বলেছেন, ক্রমবর্ধমানভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রচেষ্টায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০০টির বেশি পরিমাণে আমদানিকৃত পণ্য চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, রাসায়নিক, ওষুধ এবং প্লাস্টিক সহ নানান সবচেয়ে বেশি আমদানীকৃত পণ্য। যা নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে আমদানি নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে দেশীয় বিকল্প দিয়ে প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে। বার্থওয়াল বলেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনের ধারণাটি হল স্বদেশী পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি। উক্ত বিষয় বিস্তারিত আলোচনা করার আগে জেনে নেওয়া জরুরী যে আগস্ট মাসে ভারতের রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৫.১০ বিলিয়ন ডলারের, যেখানে আমদানি মূল্য ছিল ৬১.৫৯ বিলিয়ন ডলার।
ভারত সরকার তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে আমদানিকে শ্রেণীবদ্ধ করেছে, যেমন- কাঁচামাল, মধ্যস্থতাকারী এবং সমাপ্ত পণ্যের পরিমাণ কত। সাথে দেশ অভ্যন্তরীণ শিল্পের সক্ষমতা এবং তারপরে কোন আমদানিগুলি প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে তাও পর্যালোচনা করছে। বাণিজ্য সচিব বলেন, ১০০ সর্বোচ্চ আমদানিকৃত পণ্যগুলি চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং এতে মন্ত্রণালয়গুলির পাশাপাশি শিল্পের অংশীদারদের সাথে পরামর্শ করা হবে। সাথে রপ্তানি প্রচার প্রচেষ্টার জন্য বিদেশে মিশন পরিচালনার মাধ্যমে ভারত ভারতীয় পণ্য আমদানি করে এমন শীর্ষ ৫০টি দেশের দিকেও তার মনোযোগ প্রসারিত করছে। এর পাশাপাশি ২০টি গুরুত্বপূর্ণ দেশের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যা ভারতের রপ্তানির ৬০%- এরও বেশি।
আর এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময় ভারতীয় বাণিজ্য বিভাগের সাথে যুক্ত হচ্ছে, যখন ভারত মেক ইন ইন্ডিয়া প্রচারণা জোরদার করার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশেষ করে সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা এবং সাম্প্রতিক বাণিজ্য-সম্পর্কিত ব্যাঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে। এছাড়াও মন্ত্রণালয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওমান, নিউজিল্যান্ড, পেরু এবং চিলির মতো দেশগুলির সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য আলোচনা দ্রুত করার চেষ্টা করছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি চুক্তির জন্য আলোচনায়ও নিয়োজিত রয়েছে। EU- এর সাথে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য ভারতের পরবর্তী দফা আলোচনা ৬-১০ অক্টোবর ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে, ‘বাণিজ্যিক সমস্যা’ নিয়ে ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে একদিনের আলোচনার জন্য সোমবার রাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন বাণিজ্য প্রতিনিধি নয়াদিল্লিতে থাকবেন।




