Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্বজুড়ে কমোডিটি বাজারে সপ্তাহের শেষটা ছিল নাটকীয়। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের বাজারে বড় পতন দেখা গেছে। কারণ বিনিয়োগকারীরা আশাবাদী যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল ইতিবাচক আসতে পারে। আর এই পতনের মূল কারণ হলো সম্ভাব্য যুদ্ধ বিরতি সম্প্রসারণ এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে যাওয়ার আশা। বিশ্বের মোট তেল ডিমান্ডের একটি বড় অংশ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবহন করে। তাই এই খবর বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
ব্রেন্ট ক্রড অয়েলে আগস্ট ডেলিভারি চুক্তি সপ্তাহ জুড়ে প্রায় ১২% কমেছে। সপ্তাহের শুরুতে যেখানে দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৮ ডলারের আশেপাশে ছিল, তা সপ্তাহের শেষ ৯০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একইভাবে WTI ক্রডেও ৯%-এর বেশি পতন লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য তেলের দাম কমলেও সোনার বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX Gold সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে গয়নার সোনার দাম দেশের বাজারে কমেছে। অবশ্য বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও বড় র্যালি দেখা যায়নি; কারণ বাজার এখনো মার্কিন সুদের হার ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।
এদিকে সপ্তাহের শুরুতে রুপোর দাম চাপের মুখে ছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে COMEX Silver টানা তৃতীয় সপ্তাহের জন্য নেতিবাচক অবস্থানে লেনদেন শেষ করছে। এমনকি ভারতের MCX বাজারেও রুপোর দাম প্রায় ২% কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যার ফলে রুপোর চাহিদা কিছুটা কমেছে। এর সাথে এই সপ্তাহের কমোডিটি বাজার স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিল যে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেল, সোনা ও রুপোর দামের সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি গুলোর মধ্যে একটি।




