Article By – সুনন্দা সেন

ভারত হঠাৎ করেই সোনা এবং রুপোর আমদানিতে বড় ধাক্কা। সরকারি অনুমোদনে দেরি হওয়ার কারণে দেশের প্রধান আমদানিকারক ব্যাংকগুলি আপাতত বিদেশ থেকে নতুন করে সোনা ও রুপো আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। সূত্রের খবর, নতুন আর্থিক বছরের জন্য এখনও পর্যন্ত সরকার প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র দেয়নি। যার ফলেই এই অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রতি বছরই নতুন অর্থবছরের শুরুতে ভারত সরকার নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংক ও সংস্থাকে সোনা ও রুপো আমদানির অনুমতি দেয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ক্ষেত্রে সেই অনুমোদন এখনও জারি হয়নি।
এদিকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫ টন সোনা এবং ৮ টন রূপো দেশের বিভিন্ন বন্দরে এসে পৌঁছেছে, কিন্তু সেগুলিও কাস্টমসে আটকে রয়েছে অনুমোদনের অভাবে। ফলে বাজারে সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে আসছে। এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে সোনার দামের ওপর। কারণ সামনে রয়েছে অক্ষয় তৃতীয়া—ভারতে সোনা কেনার অন্যতম বড় উৎসব। এই সময়ে সোনার চাহিদা অনেকটাই বেড়ে যায়। কিন্তু আমদানি বন্ধ থাকলে বাজারে ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যার ফলে দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
জুয়েলারি ব্যবসায়ীরাও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগে রয়েছেন। অনেকেই এখন বিকল্প উৎস থেকে সোনা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন, যেমন এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা পুরনো গয়না পুনর্ব্যবহার। কিন্তু তাতে চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সোনা ও রূপোর আমদানি কমে গেলে দেশের আমদানি বিল কিছুটা কমতে পারে, ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বা ট্রেড ডেফিসিট নিয়ন্ত্রণে সাহায্য মিলতে পারে। একইসঙ্গে, ডলারের ওপর নির্ভরতা কমায় ভারতীয় মুদ্রা রুপির ওপর চাপও কিছুটা হালকা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার সম্ভবত আমদানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার খরচ কমানোর চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়েছে, সেই চাপ সামলাতেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে এটি স্থায়ী কোনো নিষেধাজ্ঞা নয়। অনুমোদন মিললেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কিন্তু ততদিন পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা এবং দামের ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।




