Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনীতির আকার নিয়ে বড় সংশোধন সামনে এলো। নতুন GDP সিরিজ অনুযায়ী, চলতি বা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের নমিনাল GDP দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৪৫ লক্ষ কোটি টাকায়। অর্থাৎ আগে যা হিসাব করা হয়েছিল, তার থেকে এটি প্রায় ৩%-এরও বেশি কম। এই সংশোধনের ফলে বহু প্রতীক্ষিত ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার লক্ষ্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পূরণ না হয়ে সম্ভবত ২০২৬-২৭ অর্থবছর পর্যন্ত গড়াতে পারে। অবশ্য GDP সংশোধন মানেই অর্থনীতির গতি কমার ইঙ্গিত নয়, বরং হিসাবের পদ্ধতিগত আধুনিকরণ।
বিষয়টির নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, এই সংশোধনের মূল কারণ হল নতুন বেসইয়ার (ভিত্তিবর্ষ) ধরে GDP গণনার পদ্ধতিগত পরিবর্তন। মিনিস্ট্রি অফ স্ট্যাটিসটিক্স অ্যান্ড প্রোগ্র্যাম ইমপ্লিমেন্টেশন নতুন সিরিজে আরও আধুনিক তথ্যসূত্র, উন্নত ডিফ্লেটর পদ্ধতি এবং বিভিন্ন খাতের আপডেটেড ডেটা অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে অর্থনীতির প্রকৃত কাঠামো আরও নির্ভুলভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তবে নমিনাল আকার কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
ডলারের হিসাবে হিসেব করলে চলতি অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি প্রায় ৩.৮ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি থাকতে পারে, যা ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের ফিজিওলজিক্যাল লিমিটের নীচে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এই লক্ষ্য অর্জন কেবল সময়ের অপেক্ষা। অবশ্য রিয়েল GDP বৃদ্ধির হার এখনও শক্তিশালী বলেই ইঙ্গিত মিলেছে। উৎপাদন, পরিসেবা ও অবকাঠামো খাতে গতি বজায় থাকায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৭%-এর উপরে থাকতে পারে বলে অনুমান। অর্থাৎ অর্থনীতির মজবুত থাকলেও নমিনাল আকারের সংশোধন আন্তর্জাতিক স্তরের তুলনায় অবস্থান কিছুটা বদলে দিতে পারে।
GDP-র ভিত্তি ছোট হলে একই পরিমাণ ঘাটতি শতাংশের হিসাবে বেশি দেখাবে। ফলে সরকারের আর্থিক সংযমের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ কিছুটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যন্য GDP- এর অনুপাতও আগের হিসাবের তুলনায় সামান্য বেশি দেখা যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা অটুট রয়েছে। জনসংখ্যাগত সুবিধা, ডিজিটাল অবকাঠামো, উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ এবং পরিষেবা রপ্তানির শক্ত ভিত আগামী কয়েক বছরে অর্থনীতিকে আরও বড় উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।




