Article By – সুনন্দা সেন

রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের দ্বারা প্রকাশিত এক রিপোর্টে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি সম্ভবত ৭.৩% হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মূলধন ব্যয় কম থাকলেও গ্রামীণ ও সরকারি ব্যয় বৃদ্ধির হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬১ জন অর্থনীতিবিদের সমীক্ষা অনুযায়ী, এই প্রবৃদ্ধি যদিও আগের ত্রৈমাসিকের ৭.৮%-এর তুলনায় সামান্য কম। তবুও ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। সাথে বলেছে যে এই ত্রৈমাসিকে ব্যতিক্রমীভাবে কমে ডিফ্লেটর বা কম মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব দেখা গেছে। এর ফলে বাস্তব GDP সংখ্যাটি কিছুটা স্ট্যাটিস্টিক্যাল বুস্ট পেয়েছে।
সমীক্ষা অনুযাযী, দ্বিতীয় (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ত্রৈমাসিক গ্রামীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তাও ভালো কৃষি উৎপাদন এবং বর্ষার পর গ্রামীণ ব্যয় বৃদ্ধি কারণে। পাশাপাশি কেন্দ্রের উচ্চ মূলধনী ব্যয় (Government CAPEX) অর্থনীতিকে বৃহৎ সাপোর্ট দিয়েছে। সড়ক, রেল, অবকাঠামো প্রকল্পে সরকারি বিনিয়োগ অর্থনীতিতে টেকসই চাহিদা তৈরি করেছে। তবে, শহুরে ভোক্তা ব্যয় ও প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট দুর্বল রয়ে গেছে। বড় বড় কোম্পানির বিনিয়োগ পরিকল্পনা তেমন গতি পায়নি, এবং শহরাঞ্চলে উচ্চ সুদের হার ও সতর্ক ব্যয়ের প্রভাব স্পষ্ট। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের প্রবৃদ্ধি এই দুটি ক্ষেত্র পুনরুদ্ধার না হলে চাপে পড়তে পারে।
ইকোনমিক অ্যানালিস্টদের মতে, সরকারী ব্যয় এবং গ্রামীণ খাত অর্থনীতিকে এখনো টেনে রাখছে, তবে দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে চাইলে, প্রাইভেট ক্যাপেক্সের পুনরুজ্জীবন এবং শহুরে ভোক্তা চাহিদার শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন খুবই জরুরি। এছাড়া অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রবৃদ্ধি কিছুটা ধীর হতে পারে। তবে ৭%-এর ওপরে গ্রোথ বজায় রাখতে পারলেই ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বড় অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখবে। অফিশিয়াল GDP সংখ্যা প্রকাশ করবে কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান মন্ত্রণালয় (MOSPI) নভেম্বরের ২৮ তারিখে।




