Article By – সুনন্দা সেন

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও চমক দেখা গেল মূল্যবান ধাতুর দামে। রুপোর দাম হঠাৎ কেজি প্রতি প্রায় ৪,৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে এবং সোনার দামও নতুন করে উত্থান দেখিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও US ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে, তবুও বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনও সোনা ও রুপোর মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডলার ওঠানামা, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ধীরগতি—এই তিনটি কারণ মূল্যবান ধাতুর দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।
কারণ যখনই বাজারে ঝুঁকি বাড়ে, তখন বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার থেকে কিছু অর্থ সরিয়ে সোনা-রুপোয় রাখেন। এর ফলে চাহিদা বাড়ে এবং দামও দ্রুত উপরে ওঠে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সোনার পাশাপাশি রুপোর একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। রুপো শুধু নিরাপদ বিনিয়োগ নয়, শিল্পক্ষেত্রেও ব্যাপক ব্যবহৃত হয়—বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, সৌর প্যানেল ও নতুন প্রযুক্তিতে। ফলে শিল্পে চাহিদা বাড়লে রুপোর দাম দ্রুত বাড়ে, আবার বাজারে ভয় বাড়লেও বিনিয়োগের কারণে দাম লাফ দেয়। এই দুই কারণ মিলেই রুপোর দামে তুলনামূলক বেশি ওঠানামা দেখা যায়।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, হঠাৎ দাম বাড়ার সময় একসাথে বড় বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বরং ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করা নিরাপদ।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে—পোর্টফোলিওর একটি ছোট অংশ সাধারণত ১০% থেকে ১৫%, সোনা বা রুপোয় রাখা। এতে বাজার পড়লেও সম্পূর্ণ ক্ষতির ঝুঁকি কম থাকে। অন্যদিকে স্বল্পমেয়াদি ট্রেডারদের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি, কারণ দ্রুত উত্থানের পরে অনেক সময় দাম কিছুটা সংশোধনও হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়ে যায় এবং সুদের হার বাড়তে থাকে, তাহলে সোনা-রুপোর দাম কিছুটা কমতে পারে। কিন্তু যদি নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে তাহলে আবারও দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




