Article By – সুনন্দা সেন

ভারত সরকার দেশের অন্যতম বড় শক্তি সংক্রান্ত আইনি লড়াইয়ে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও তাদের অংশীদার BP (ভারত পেট্রোলিয়াম)-এর কাছ থেকে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার দাবি করেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, কৃষ্ণা-গোদাবরী অববাহিকার কেজি- D6 গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্রে নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় অনেক কম গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে। যার কারণে দেশের বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সরকারি দাবি অনুযায়ী, KG-D6 ব্লকের D1 ও D3 গভীর সমুদ্র গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে যে পরিমাণ গ্যাস মজুত ও উৎপাদনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার একটি ছোট অংশই উত্তোলন হয়েছে।
খাতায় কলমে জানানো কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্রে বা গ্যাস ক্ষেত্র (Gas field)-এর সঠিক ব্যবস্থাপনা হওয়ায় এবং উৎপাদন কৌশলের ত্রুটির কারণে সম্ভাব্য বিপুল পরিমাণ গ্যাস মজুত সম্ভব হয়নি। যেখানে এই গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র এক সময় ভারতের শক্তি (এনার্জি) নিরাপত্তার মেরুদন্ড হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। যা শুরু হয় দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে এক প্রকল্প রূপে। কিন্তু উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় কেন্দ্র সরকার মনে করছে, এতে দেশের রাজস্ব ও এনার্জি পরিকল্পনায় বড় আঘাত নেমে এসেছে। আর কেন্দ্র এটিকে দুটি বড় ধাক্কা হিসাবে দেখছে।
রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিক ও BP অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, তারা চুক্তির সমস্ত শর্ত মেনেই কাজ করছে এবং গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্রের ভূতাত্বিক বাস্তবতা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। কোম্পানি জানায়, উৎপাদন কম মানেই চুক্তি ভঙ্গ নয়। এই বিতর্ক বর্তমানে একটি তিন সদস্যের সালিশি ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। ২০২৫ সালের শেষের দিকে চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি রায় ঘোষণা হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলার রায় শুধু রিলায়েন্স ও BP জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতে ভারতের প্রাকৃতিক সম্পদ সংক্রান্ত চুক্তি।




