Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের জেমস (রত্ন) ও জুয়েলারি ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন করে উদ্বেগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে দেশের রত্ন ও গয়না রপ্তানি বার্ষিক ভিত্তিতে ৯.০৭% কমে দাঁড়িয়েছে ২,২২৬.৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আন্তর্জাতিক বাজারে দুর্বল চাহিদা, সোনার উচ্চমূল্য এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে এই পতন হয়েছে বলে মনে করছে শিল্প মহল। জেমস অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রমোশন কাউন্সিল জানিয়েছে, বিশেষ করে কাটিং ও পালিশ করা হিরে (diamond) রপ্তানিতে ভারতীয় মার্কেট বড় ধাক্কা খেয়েছে।
এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) ও ইউরোপের বাজারে বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ওপর চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি ল্যাব-গ্রোন ডায়মন্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ায় প্রাকৃতিক হীরের ব্যবসাও (Natural Diamond Business) ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের বাজারে সোনার দাম এখনও অনেক উঁচুতে রয়েছে। আজ ভারতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি গ্রামে প্রায় ১৫,৬২২ টাকা এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রায় ১৪,৩২০ টাকা। সোনার এই উচ্চমূল্যের কারণে গয়নার চাহিদা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক, দুই বাজারেই কিছুটা কমেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদের হার কমা শুরু হলে এবং মার্কিন বাজারে ভোক্তা ব্যয় বাড়লে ভারতের রত্ন ও গয়না রপ্তানি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া বছরের শেষভাগে উৎসব ও বিয়ের মরসুমে সোনার গয়নার চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে বর্তমানে এই ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যচাপ সামাল দেওয়া। রপ্তানিকারকরা আশা করছেন, আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে এই খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।




