Article By – সুনন্দা সেন

ভারত বহু বছর ধরেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি বড় “শর্টকাট” বা সহজ বিকল্প পথ খোঁজার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর জন্য ভারতকে “চীন-প্লাস-ওয়ান” (China-plus-one) বিকল্প হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ধারণাটা ছিল সহজ—চীন থেকে কিছু উৎপাদন সরিয়ে ভারত নিয়ে এলে দ্রুত বিনিয়োগ, চাকরি এবং উৎপাদন বৃদ্ধি হবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, এই পথ এতটা সহজ নয়।
বিশ্ব বাণিজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে চীন বারবার তাদের নিয়ম-কানুন পরিবর্তন করছে। কখনও প্রযুক্তি খাতে কড়া নিয়ন্ত্রণ, কখনও রপ্তানি নীতিতে হঠাৎ পরিবর্তন, আবার কখনও কৌশলগত খাতে নতুন বিধিনিষেধের মাধ্যমে তারা নিজেদের শিল্প ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করছে। ফলে কোম্পানিগুলোর জন্য চীনের বাজার একইসঙ্গে বড় এবং অনিশ্চিত। অন্যদিকে, ভারতের অবস্থান আলাদা। ভারত তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত বাজার এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিয়ে এগোতে চাইছে। PLI স্কিমের মাধ্যমে মোবাইল, ইলেকট্রনিক্স, এবং উৎপাদন খাতে বিদেশি বিনিয়োগ টানার চেষ্টা চলছে।
অনেক কোম্পানি ভারতে আসছে, আবার কিছু প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জেও পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো গতি এবং অবকাঠামো। শুধু নীতি থাকলেই হয় না, সেটি দ্রুত এবং সমানভাবে রাজ্য স্তরে বাস্তবায়ন করাও জরুরি। অন্যদিকে চীন একদিকে কঠোর নিয়ম তৈরি করলেও, প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো এক জটিল অবস্থায় আছে। একদিকে চীনের বাজার এবং সাপ্লাই চেইনের গভীর নির্ভরতা, অন্যদিকে ভারতের সম্ভাবনা কিন্তু বাস্তবায়নের ধীরগতি। বিশ্লেষকদের মতে, “সহজ শর্টকাট” বলে কিছু নেই। চীন নিয়ম বদলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করছে। আর তাই ভারতকে এখন শুধু সুযোগ তৈরি করলেই হবে না—সেই সুযোগকে দ্রুত, বড় স্কেলে এবং ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।




