Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে চলতি খরিফ মরসুমে বাসমতি ধানের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। কারণ গত এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী চাহিদা দেশীয় বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এবার আরও বেশি জমিতে বাসমতি চাষের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও লাভজনক দাম সেই ঝুঁকিকে অনেকটাই সামলে দিচ্ছে। ভারতের প্রধান বাসমতি উৎপাদক পাঞ্জাব, হরিয়ানা, পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ এবং জম্বু-কাশ্মীরের মতো রাজ্য ইতিমধ্যেই চাষের প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। ভালো জাতের বাসমতি চালের ফলনে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে এবং পরবর্তী ফসল চাষের সুযোগও বাড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত মরসুমে বাসমতি দাম শক্তিশালী থাকায় কৃষকদের লাভ বাড়ছে। সেই অভিজ্ঞতাই এবার চাষের এলাকা বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। তবে আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলছেন, বর্ষার মরশুমের বৃষ্টিপাত যদি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয় বা দীর্ঘসময় ধরে বৃষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে ফলন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই আগামী কয়েক সপ্তাহে আবহাওয়া পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আবার অনুমান করা হচ্ছে, যদি আবহাওয়া অনুকূলে থাকে, তাহলে কৃষকদের আয়, ভারতের কৃষি রপ্তানি এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক খবর হয়ে উঠতে পারে।
ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় বাসমতি চাল রপ্তানিকারক দেশ। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং আরও অনেক দেশে ভারতীয় বাসমতির ব্যপক চাহিদা রয়েছে। যার ফলে চাষের এলাকা বাড়লে আগামী মৌসুমে উৎপাদনও বাড়তে পারে, যা রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে কৃষকদের আয়ও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও আবহাওয়ার ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক চাহিদা এবং রপ্তানি নীতির উপর আগামী দিনের দাম অনেকটাই নির্ভর করবে।




