Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছল ভারত। স্মার্টফোন উৎপাদন ও রপ্তানিতে বড় সাফল্য অর্জন করে ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের স্মার্টফোন বিদেশে পাঠিয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw) জানিয়েছেন, ভারত এখন কেবল দেশের চাহিদা পূরণ করছে না। বরং “বিশ্বের জন্য উৎপাদনকারী কারখানা” হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে মোট মোবাইল ফোন উৎপাদনের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫.৫ লক্ষ কোটি টাকা, যার একটি বড় অংশই রপ্তানিমুখী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসময় যেখানে ভারত মূলত আমদানিনির্ভর ছিল; আজ সেখানে দেশীয় উৎপাদনই রপ্তানির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলির বিনিয়োগ। বিশেষ করে Apple ভারতে তাদের আইফোন উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে ভারতের মোট স্মার্টফোন রপ্তানির বড় অংশ এসেছে অ্যাপলের ডিভাইস থেকে। পাশাপাশি Samsung-ও ভারতের কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ স্মার্টফোন বিদেশে পাঠাচ্ছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই সাফল্যের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। স্মার্টফোন এখন ভারতের শীর্ষ রপ্তানি পণ্যের মধ্যে অন্যতম। আগে যেখানে পেট্রোলিয়াম বা হীরের মতো পণ্য রপ্তানির তালিকায় শীর্ষে থাকত, এখন সেখানে প্রযুক্তিপণ্য জায়গা করে নিচ্ছে। এটি ভারতের অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক বছরে যদি একই হারে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়তে থাকে, তবে ভারত বিশ্বে শীর্ষ স্মার্টফোন উৎপাদনকারী দেশগুলির মধ্যে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
এছাড়া সরকারের প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেনটিভ বা PLI স্কিম এই উত্থানের অন্যতম ভিত্তি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় ও বিদেশি সংস্থাগুলিকে বড় আকারে উৎপাদনের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ফলস্বরূপ, শুধু বড় কর্পোরেট নয়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলিও এই সরবরাহ চেইনের অংশ হয়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন খাতে মহিলাদের কর্মসংস্থানও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স উপাদান উৎপাদনেও জোর দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরও কমে।




