Article By – সুনন্দা সেন

এক সময় যাকে আধুনিক অর্থনীতির জন্য একেবারে অচল বলে মনে করা হত, আজ সেই ব্যবস্থাই ভারতের লক্ষ লক্ষ ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোগ বা SME -এর জন্য আশীর্বাদে পরিণত হয়েছে। চেকভিত্তিক লেনদেন ও ক্রেডিট ব্যবস্থার, যা ডিজিটাল পেমেন্টের যুগেও আশ্চর্যজনকভাবে দেশের ব্যবসায়িক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে চেক বুক। ডিজিটাল UPI, রিয়েল-টাইম পেমেন্ট ও অনলাইন ট্রানসেকশনের দাপটে একসময় মনে করা হচ্ছিল, চেক খুব দ্রুত ইতিহাসের পাতায় চলে যাবে। অনেকেই একে ধীর, ঝুঁকিপূর্ণ ও অপ্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।
কিন্তু বাস্তবে ভারতের SME ইকোসিস্টেমে চেক আজও একটি কার্যকর আর্থিক হাতিয়ার হিসেবে টিকে আছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ হল ভারতের SME-গুলির কাজের ধরন। বড় কর্পোরেট সংস্থার সঙ্গে লেনদেনে ছোট ব্যবসাগুলিকে প্রায়ই ক্রেডিটের ওপর ভরসা করে কাজ করতে হয়। পোস্ট-ডেটেড চেক বা নির্দিষ্ট সময়ের চেক তাদের জন্য একটি লিখিত আর্থিক প্রতিশ্রুতি হিসেবে কাজ করে। যা শুধু আস্থাই তৈরি করে না, প্রয়োজনে আইনি সুরক্ষাও প্রদান করে। এখানেই আসে নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার গুরুত্ব। চেক বাউন্স হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকায় বহু SME ছোট-বড় গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা পাওয়ার বিষয়ে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়।
ডিজিটাল পেমেন্টে যেখানে অনেক ক্ষেত্রে এই ধরনের জটিল আইনি ব্যাকআপ নেই, সেখানে চেক এখনও ব্যবসায়িক নিশ্চয়তার প্রতীক। ব্যাংক ও NBFC-গুলিও এই ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে SME-রা চেকের ভিত্তিতে বিল ডিসকাউন্টিং বা স্বল্পমেয়াদি ঋণ পাচ্ছে। এর ফলে তাদের ক্যাশ ফ্লো ম্যানেজমেন্ট সহজ হচ্ছে এবং ব্যবসা চালু রাখতে আলাদা বড় মূলধনের প্রয়োজন কমছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মতো দেশে যেখানে ব্যবসার বড় অংশ এখনও আধা-প্রাতিষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কাঠামোয় চলে, সেখানে একমাত্র ডিজিটাল পেমেন্ট সব সমস্যার সমাধান নয়। চেকভিত্তিক ব্যবস্থা এখানে এক ধরনের চেইন সিস্টেমে কাজ করছে—পুরনো আস্থা ও নতুন অর্থনীতির মধ্যে।




