buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
Fashion Jewellery

শিল্প কর্মকর্তাদের বড় বয়ান এলো সামনে, চীনা আমদানি ভারতীয় বাজারে কেমন প্রভাব ফেলেছে?

Article By – সুনন্দা সেন

Untitled design 2024 08 09T113155.925

দেশীয় ফ্যাশন গহনা প্রস্তুতকারকরা চীনা আমদানির আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা বার্ষিক ভিত্তিতে ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানিকারকদের দ্বারা আমদানিকৃত পণ্যের চীনা পণ্যের উচ্চ চালান এবং অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক এড়াতে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের তুলনায় তাদের প্রায় ৫০% সস্তা করে তোলা হয়েছে। তারা বলেন, এই আমদানিগুলি ফ্যাশন গহনার জন্য ৭১১৭ HSN (এই কোড হল একটি অভিন্ন কোড যা ৫,০০০ টিরও বেশি পণ্যকে শ্রেণীবদ্ধ করে এবং এটি বিশ্বব্যাপী গৃহীত হয়) কোডের আওতায় আসছে না। ফলে প্রতি কেজি ৬০০ টাকার শুল্ক এড়িয়ে যেতে পারছে। যার ফলে অনেক ভারতীয় নির্মাতা তাদের উৎপাদন এবং কর্মীশক্তি কমাতে বাধ্য হচ্ছেন।

7 3

ইন্ডিয়া ইমিটেশন জুয়েলারি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নগেন্দ্র মেহতা বলেন, কিছু চীনা আমদানি করা গয়না কাস্টমস ক্লিয়ারিং এবং ফরোয়ার্ড এজেন্ট আন্ডার-ইনভয়েসের আওতায় পড়ছে। তিনি আরও বলেন, ভারতে চীনা ফ্যাশন গহনার অংশ ২০১৯-২০ সালে ২৫% থেকে দ্বিগুণ হয়ে ২০২৪-২৫ সালে ৫০% হয়েছে। যার কারণে ভারতের ফ্যাশন জুয়েলারি উৎপাদন ও ব্যবসার বৃহত্তম কেন্দ্র মুম্বাইয়ের স্থানীয় নির্মাতারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। শিল্প কর্মকর্তাদের মতে, গুজরাটের রাজকোট, পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুর এবং অন্ধ্র প্রদেশের মছলিপত্তনমের মতো অন্যান্য কেন্দ্রগুলিও একই রকম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।

ভারত প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে প্রতি কেজি ৪০০ টাকা অথবা পণ্যের মূল্যের ২০% শুল্ক আরোপ করেছিল। যা আবার দুই বছর পর বাড়িয়ে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা অথবা পণ্যের মোট মূল্যের ২৫% করা হয়। মেহতা বলেন, শুল্ক বৃদ্ধি ভারতীয় ফ্যাশন জুয়েলারি আমদানিকারকদের চীন থেকে অসদাচরণের মাধ্যমে গয়না আমদানি থেকে বিরত রাখতে পারেনি। বিভিন্ন HSN কোডের অধীনে এখনো পণ্য আমদানি করে ব্যাপক শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। এদিকে এই কার্যক্রমের ফলে ২০১৯-২০ সাল থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে ভারতের ফ্যাশন গহনার বাজার ৩০,০০০ কোটি টাকা থেকে প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকায় প্রসারিত হয়েছে। 

মালাড-ভিত্তিক রাজীব অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক ভারত মাইলি বলেন, কম খরচে গয়না উৎপাদনের প্রযুক্তিতে চীন ভারতের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। সেখানকার নির্মাতারাও সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া ভারতের উৎপাদকরা সেই প্রযুক্তি আনতে পারছে না এবং সেই জায়গায় দেশীয় উৎপাদকদের মনোযোগ কেবল মানসম্পন্ন পণ্যের উপর। অতএব ভারতের ফ্যাশন গহনা প্রস্তুতকারকর ইন্ডাস্ট্রি এখন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগে উৎপাদন ইউনিটে তিন মাস ধরে অর্ডার পেন্ডিং ছিল। তবে এখন ব্যবসা ৫০% কমে গেছে, যার ফলে দেশীয় সংস্থাগুলিকে কর্মী সংখ্যা ৬০ থেকে কমিয়ে ২০ করতে হচ্ছে। এছাড়া অনেক ইউনিট তাদের কর্মীদের সময়মতো মজুরি দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading