Article By – সুনন্দা সেন

একসময় আমদানিকারক দেশ ছিল ভারত। বিশেষ করে চীন থেকে আমদানির আধিপত্য ছিল ভারতের খেলনা ইন্ডাস্ট্রি, যা ধীরে ধীরে অন্যদিকে বাক নিচ্ছে। বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীয়ূষ গোয়েলের মতে, ভারতের খেলনা ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে ১৫৩ টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করে। তিনি চলতি সপ্তাহের নয়াদিল্লিতে টয় নিজ আন্তর্জাতিক এক্সপো ২০২৫-এ বক্তব্য রাখার পর উক্ত বিষয়েই আলোচনা করেছেন GTRI (Global Trade Research Initiative) অনুসারে, ভারত ২০২৩-২৪ সালে ১৫২.৩৪ মিলিয়ন ডলারের খেলনা রপ্তানি করেছে। যা আগের বছরের তুলনায় সামান্য কম।
গোয়েল বলেন, ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট ছিল কোয়ালিটি কন্ট্রোল অর্ডার বা QCO প্রয়োগ করা। তিনি উল্লেখ করেন যে QCO ভারতকে একটি কুয়ালিটি সচেতন দেশ করে তুলেছে এবং দেশীয় খেলনা প্রস্তুতকারদের বিশ্বব্যাপী মানদন্ড পূরণ করতে সক্ষম করে তুলেছে। ভারতীয় মান ব্যুরো বা BIS-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতীয় আবহাওয়া এবং ব্যবহারের জন্য তৈরি দেশের খেলনা সেফ্টি স্ট্যান্ডার্স এখন বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়মকে ছাড়িয়ে গেছে। আবার BIS পরিচালক অভূত সিং PTI-কে বলেন যে ভারতীয় নিয়মগুলি ISO এবং IEC স্ট্যান্ডার্ডের তুলনায় আরও কঠোর। বিশেষ সেই সব সাথে যেখানে ক্যামিকাল এবং ইলেকট্রনিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে।
গোয়েল আরও বলেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের জন্য কেবল গুনমানই যথেষ্ট নয়। তাই ভারত যদি ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং পণ্য নকশা (প্রডাক্ট ডিজাইন)- এর উপর মনোনিবেশ করে, সেক্ষেত্রে ভারতীয় খেলনা বিশ্বজুড়ে আরও বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ১৮টি খেলনা ক্লাস্টারকে সমর্থন করেছে। যা পরিকাঠামো এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সহায়তা প্রদান করে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা খেলনা স্টার্টআপ গুলিকে জামানত-মুক্ত ঋণ পেতে সহায়তা করেছে, বিশেষ করে স্মল বিজনেস গুলিকে।
সরকারি তথ্য অনুসারে, ভারত বছরে প্রায় ৪০কোটি খেলনা উৎপাদন করে এবং প্রতি সেকেন্ডে দশটি নতুন খেলনা ডিজাইন করে থাকে। তবে অগ্রগতির থাকলেও এই ইন্ডাস্ট্রির প্রবৃদ্ধি ধীরতার সাথে অব্যাহত রয়েছে। GTRI-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩-২৪ সালে ভারতের খেলনা রপ্তানি ১৫২.৩৪ মিলিয়ন ডলারের ছিল। যা আগের বছরের ১৪৩.৮৯ মিলিয়ন ডলারের থেকে সামান্য কম। যা ইঙ্গিত দেয় যে কাঠামোর উন্নতি হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় খেলনা ইন্ডাস্ট্রির বৃহৎ আকারে প্রবেশে সময় আছে।




