Article By – সুনন্দা সেন

বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে ভারত বর্তমানে ফ্রি ট্রেড চুক্তি বা FTA নিয়ে নতুন কৌশলের পথে হাঁটছে। অতীতের অভিজ্ঞতা সাথে নিয়ে দেশের রাজধানী সাজাচ্ছে বাণিজ্য নীতির ‘প্লেবুক’, তাও আবার নতুন করে। যেখানে কেবল মার্কেট উন্মুক্ত করা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ, কর্মসংস্থান ও অভ্যন্তরীণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আগের সময়ের অনেক FTA সংক্রান্ত আলোচনা থেকে জানা গেছে যে আমদানি দ্রুত বেড়েছে কিন্তু রপ্তানি প্রত্যাশানুসারে বৃদ্ধি পায়নি। এর ফলে কিছু সেক্টরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এবং দেশীয় শিল্প চাপের সম্মুখীন।
এই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই ভারতের নতুন কৌশলে দেখা যাচ্ছে আরও সতর্ক, খাতভিত্তিক ও শর্তসাপেক্ষ পদ্ধতি। যেখানে নতুন ‘প্লেবুক’- এর দিকগুলি হলো:
- নতুন প্লেবুকের প্রথম বড় দিক হলো—ধাপে ধাপে শুল্ক ছাড়। ভারত এখন এক ধাক্কায় শুল্ক কমানোর বদলে দীর্ঘ সময় ধরে পর্যায়ক্রমে শুল্ক কমাতে চাইছে, যাতে দেশীয় শিল্প প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ পায়।
- দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার বা অশুল্ক বাধা নিয়ে জোর। শুধু শুল্ক কমালেই চলবে না; ভারত চাইছে তার পণ্য ও পরিষেবা যেন অংশীদার দেশগুলির বাজারে প্রযুক্তিগত মান, নিয়মকানুন ও সার্টিফিকেশন সমস্যায় আটকে না যায়। এই বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
- তৃতীয় দিকটি হলো পরিষেবা ও ডিজিটাল বাণিজ্যের ওপর জোর। আইটি, ফিনটেক, পেশাদার পরিষেবা, স্টার্টআপ এবং ডিজিটাল ইকোনমিতে ভারতের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে উন্নত বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোই এখন লক্ষ্য। আগের অনেক চুক্তিতে যেখানে পণ্যের বাণিজ্য প্রাধান্য পেত, নতুন কৌশলে পরিষেবা খাত অনেক বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়াও, নতুন এফটিএ কৌশলে সংবেদনশীল খাতের সুরক্ষা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হচ্ছে। কৃষি, দুগ্ধ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মতো খাতে ভারত খুব সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে, যাতে সস্তা আমদানির ধাক্কায় এই খাতগুলি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও ভারতের অবস্থান বদলাচ্ছে। ‘চায়না প্লাস ওয়ান’ কৌশলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত এখন ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া এবং উন্নত অর্থনৈতিক দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক গভীর করতে চাইছে। এই প্রেক্ষাপটে FTA-গুলোকে দেখা হচ্ছে শুধু বাণিজ্য চুক্তি হিসেবে নয়, বরং কৌশলগত অংশীদারিত্বের হাতিয়ার হিসেবে।




