buzywithinfoBuzy With Info
Everything About Business
AI

AI ও ক্লাউড চাহিদায় ভারতের ডেটা সেন্টারে বুম! কিন্তু ২০৩০ সাল পর্যন্ত GDP বৃদ্ধিতে প্রভাব থাকবে সীমিত

Article By – সুনন্দা সেন

Untitled design 2024 08 09T113155.925

ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল পরিষেবার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেটা সেন্টারের চাহিদাও। বিভিন্ন সংস্থা ইতিমধ্যেই ভারতে ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু এত বড় বিনিয়োগের পরেও দেশের GDP-তে এই খাতের সরাসরি অবদান ২০৩০ সালের মধ্যে খুব বেশি নাও হতে পারে। মুডিস রেটিংস (Moody’s Ratings)-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে ভারতের GDP-তে ডেটা সেন্টার শিল্পের অবদান হতে পারে মাত্র ০.১৩%। শুনতে অবাক লাগলেও এর পিছনে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, আমদানি নির্ভরতা। 

11

ডেটা সেন্টার তৈরি করতে শুধু জমি ও বিল্ডিংস যথেষ্ট নয়। দরকার বিপুল সংখ্যক সার্ভার, উন্নত নেটওয়ার্কিং সরঞ্জাম, কুলিং সিস্টেম এবং অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি। এই সরঞ্জামগুলির বড় অংশ এখনও বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে ভারতে যে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ হচ্ছে, তার পুরোটা দেশের অভ্যন্তরে মূল্য সংযোজন হিসেবে থাকছে না। মডিসের হিসাব বলছে, ২০২৫ সালে ডেটা সেন্টার নির্মাণে মূলধনী ব্যয় ভারতের GDP-তে প্রায় ০.১০% যোগ করতে পারে। এর সঙ্গে ডেটা সেন্টার চালানোর জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগ থেকে আরও প্রায় ০.০৩% যোগ হতে পারে। 

সব মিলিয়ে ২০৩০ সালে GDP-তে সরাসরি অবদান দাঁড়াতে পারে প্রায় ০.১৩%। আরেকটি বড় বিষয় হল কর্মসংস্থান। ডেটা সেন্টার অত্যন্ত মূলধননির্ভর ব্যবসা। অর্থাৎ এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজন হলেও একই অনুপাতে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন হয় না। ফলে বিনিয়োগের তুলনায় সরাসরি চাকরি তৈরির সংখ্যা সীমিত থাকতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভারতের জন্য ডেটা সেন্টার শিল্পের গুরুত্ব কম। বরং AI, ক্লাউড পরিষেবা, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং অনলাইন ব্যবসার বিস্তারের জন্য ডেটা সেন্টার এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। 

ভারতের ডেটা সেন্টারের অস্তিত্ব ২০৩০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে এবং AI-র ব্যবহার এই চাহিদাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে। তাহলে ভারতের সামনে আসল সুযোগ কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বিদেশি প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি এনে ডেটা সেন্টার তৈরি করলে GDP-তে বড় প্রভাব পড়বে না। বরং সার্ভার, চিপ, কুলিং প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে পারলে এই বিনিয়োগ থেকে ভারতের অর্থনীতিতে অনেক বেশি মূল্য সংযোজন সম্ভব।

BWI 600 x 200

Leave a Reply

Discover more from Buzy With Info

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading