Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ১১ আগস্ট, ২০২৫ বাংলাদেশ থেকে সমস্ত স্থলপথে নিষিদ্ধ আমদানির তালিকায় আরও কিছু জুট প্রোডাক্ট বা পাটজাত পণ্য যুক্ত করেছে। আর এমন হওয়ার কারণ হল দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন। আর তালিকায় যুক্ত পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে পাট বা অন্যান্য টেক্সটাইল বাস্ট ফাইবারের ব্লিচড অ্যান্ড আন ব্লিচড কেনা কাপড়, পাটের দড়ি, কর্ডেজ, সুত এবং পাটের বস্তা এবং ব্যাগ। তবে বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, নাভা শেভা (Nhava Sheva) সমুদ্রবন্দর দিয়ে এই পণ্যগুলির আমদানির অণুমতি রয়েছে। এছাড়া প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ হয়েছে, সীমান্তের কোনও স্থলবন্দর থেকে আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না। আর বাংলাদেশ থেকে ভারতে কিছু পণ্য আমদানি তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রিত রয়েছে।
কেবল মহারাষ্ট্রের নহাভা শোভা সমুদ্র বন্দর দিয়ে অনুমতি থাকলেও ২৭জুন, ২০২৫ ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে সমস্ত স্থলপথে বেশ কয়েকটি পাটজাত পণ্য এবং কেনা কাপড় আমদানি নিষিদ্ধ করে। এর আগে এপ্রিল এবং মে মাসেও ভারত বাংলাদেশ থেকে আমদানির উপর একই রকম নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছিল। ১৭মে, ২০২৫ ভারত প্রতিবেশী দেশ থেকে তৈরি পোশাক এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্য সামগ্রীর মতো কিছু পণ্য আমদানির উপর বন্দর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আর পণ্যের তালিকায় ছিল জুট প্রডাক্টস, জুট এবং অন্যান্য কস্ট ফাইবার, জুটের সুতো, কেনা কাপড়, আনপলিসড কাপড় ইত্যাদি অবশ্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে নানান বিরোধিতা দেখাও দিয়েছিল।
এমনকি ৯ এপ্রিল ভারত মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, নেপাল ও ভুটান ছাড়া অন্যান্য দেশে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা প্রত্যাহার করে নেয়। আর এই ব্যবস্থা ঘোষণা করে হয়েছিল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের চীনে দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। যারপর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও পতন হয়েছে। এছাড়া টেক্সটাইল সেক্টরে বাংলাদেশ ভারতের একটি বড় প্রতিদ্বন্দী। ২০২৩-২৪ সালে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য ছিল ১২.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের। ২০২৪-২৫ সালে বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি ছিল ১১.৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে আমদানির পরিমান ছিল মাত্র ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।




