Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের রেটিং এবং রিসার্চ সংস্থার মতে, পশ্চিম এশিয়ার সংকটের ফলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে রুপির দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য ন্যাচরাল ক্লাইমেট পরিস্থিতি কৃষিক্ষেত্রে চাপ তৈরি করতে পারে। আর ঠিক এই কারণগুলিই আগামী দিনে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। সংস্থাটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে গড় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮৫ ডলার ধরে নিয়েছে, যা মে মাসের পূর্বাভাসে ৯৫ ডলার ছিল। তবে তেলের দাম কম থাকলে ভারতের বাণিজ্য ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ঘাটতির ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে।
অন্যদিকে ন্যাচরাল ক্লাইমেট বা EL Nino-এর কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সেই সুবিধা অনেকটাই সীমিত হয়ে যেতে পারে। ইন্ডিয়ান রেটিং ও রিসার্চ সংস্থাটি (India Ratings and Research) ২০২৬-২৭ অর্থবছরে চারটি ত্রৈমাসিকে GDP বৃদ্ধির হার যথাক্রমে ৬.৯%, ৬.৬%, ৬.৭% এবং ৬.৯% হতে পারে বলে পূর্বাভাস প্রকাশ করেছে। অর্থাৎ বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা বেশি চাপ দেখা দিতে পারে। তবে ভারতের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি হিসেবে এখনও রয়েছে শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও ভোক্তা ব্যয় (Consumer Spending)।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতির সামনে এখন সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলির একটি হল পশ্চিম এশিয়া (West Asia)-র পরিস্থিতি। আর এই অঞ্চলে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ ও দাম; দুই ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়তে পারে। ভারত বিশ্বের অণ্যতম বড় তেল আমদানিকারক হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়তে পারে দেশের বানিজ্য ঘাটতি, মুদ্রাস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের খরচের ওপর। অবশ্য সব ঝুঁকির মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির অন্যতম বড় শক্তি হয়ে থাকছে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা। তাই অর্থনীতির ভিত্তি এখনও তুলনামূলক শক্তিশালী।




