Article By – সুনন্দা সেন

২০২৪ সালে বিশ্বের বৃহত্তম সোনার গ্রাহক হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত শীর্ষস্থানে পৌঁছেছে। দেশটি নিজের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২৪ সালে ভারতের সোনার গয়না বা গহনা ব্যবহার ছিল ৪৬৩.৪ টন। একই সময় চীনের সোনার গহনা ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৫১১.৪ টন। গতবছর (২০২৪ সালে) ভারতের সোনার চাহিদা ৫% বৃদ্ধি পেয়ে ৮০২.৮ টনে পৌঁছায়। যা তার আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে ৭৬১ টন ছিল। আর চাহিদার উর্ধ্বমুখীতার কারণ হল গহনার ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের ক্রমবর্ধমান দামে উপর নির্ভর করে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে চাহিদা বৃদ্ধি।
২০২৪ সালে বিনিয়োগের চাহিদা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ২৪ টনে পৌঁছেছে। যা তার আগের বছর, ২০২৩ সালে ১৮৫ টন ছিল। কারণ শেয়ার বাজারের অনিশ্চয়তার কারণে খুচরা ক্রেতা, এবং বিনিয়োগকারীরা সোনার দাম বাড়ার মধ্যেও সোনার প্রতি নিজেদের আকর্ষন বজায় রেখেছে। আর বিনিয়োগের হারের সাথে পরিমাণও বৃদ্ধি করেছে উচ্চ রিটার্নের আশায়। অবশ্য ভারতের সোনার আমদানি ২০২৩ সালের ৭৪ টন থেকে ২০২৪ সালে কমে ৭১২.১ টনে দাঁড়িয়েছে। যা পুনর্ব্যবহৃত সোনা এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহের উপর নির্ভরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
২০২৪ সালে সোনার দাম ২৮% বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং ২০২৫ সালের এই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১১% বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে বিনিয়োগকারীরা আরও লাভের জন্য বাজি ধরে সোনার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করছে। ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয় এবং মুদ্রানীতি শিথিল করার প্রত্যাশা এই উত্থানকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যা মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রার অনিশ্চয়তার বিরুদ্ধে রক্ষা করে বিনিয়োগকে। ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ সোনার দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ পৌঁছেছে। কারণ চীন থেকে মার্কিন আমদানির উপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্য উত্তেজনা দেখা দেয়। যার ফলে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসাবে ভারত এগিয়ে আসে আর সম্পদের জন্য বিনিয়োগকারীদের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।




