Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং (উৎপাদন) খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রোডাকশন – লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) ও শিল্পবান্ধব নীতির জোরে মোট ৪১,৮৬৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসছে এই খাতে। যার মাধ্যমে ৩৩,৭৯১টি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এই বিশাল উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সামনে এসেছে বিশ্বখ্যাত সংস্থা ফক্সকন (Foxconn), স্যামসাং (Samsung) এবং ভারতের টাটা গ্রুপ। সরকারি সূত্র অনুযাযী, এই বিনিয়োগের বড় অংশ মোবাইল ফোন, সেমিকন্ডাক্টর কম্পোনেন্ট, ডিসপ্লে ইউনিট ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ উৎপাদনে ব্যয় হবে।
প্রত্যেকটি কোম্পানির একটাই লক্ষ্য, ভারতকে শুধু একটি বড় মার্কেট নয়, বরং বিশ্বমানের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা। আর –
- Foxconn, যাকে অ্যাপলের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে বিশ্ব চেনে, ভারতে উৎপাদন ক্ষমতা আরও বাড়াতে চলেছে। তামিলনাড়ু ও কর্নাটকের মতো রাজ্যে তাদের কারখানাগুলি শুধু রপ্তানি বাড়াবে না, স্থানীয় স্তরে হাজার হাজার চাকরিও তৈরি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, Foxconn-এর সম্প্রসারণ ভারতের গ্লোবাল সাপ্লাই চেনে অবস্থান আরও মজবুত করবে।
- অন্যদিকে, Samsung ইতিমধ্যেই নয়ডায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল ফোন কারখানা পরিচালনা করছে। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে সংস্থা স্মার্টফোনের পাশাপাশি হাই-এন্ড ইলেকট্রনিক্স পণ্য ও কম্পোনেন্ট উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। এর ফলে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
- ভারতীয় শিল্পজগতের গর্ব Tata Group-ও এই মেগা ইলেকট্রনিক্স পুশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। সেমিকন্ডাক্টর ও প্রিসিশন ইলেকট্রনিক্স উৎপাদনে Tata-র বিনিয়োগ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এটি ভারতের প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার পথে এক বড় পদক্ষেপ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ৪১,৮৬৩ কোটি টাকার বিনিয়োগ শুধু চাকরি সৃষ্টি নয়, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি ইলেকট্রনিক্স আমদানির উপর নির্ভরতা কমে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে। এছাড়া এই বিনিয়োগে আগামী কয়েক বছরে গ্লোবাল ম্যানুফ্যাকচারিং পাওয়ার হাউস হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করতে বড় ভূমিকা নেবে।




