Article By – সুনন্দা সেন

সপ্তাহের প্রথম দিনে অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি, ২০২৫ চিনি রপ্তানির উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ভারত সরকার। যার ফলে মিলাররা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর (২০২৫-এর সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত ১০ লক্ষ টন চিনি রপ্তানি করতে পারবেন। কারণ উৎপাদনের অনুমানিত পূর্বাভাসে শক্তিশালী ফসল ফলনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে ব্রাজিলের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পণ্য উৎপাদনকারী দেশটির মিলগুলিকে উদ্ধৃত্ত মজুদ রপ্তানি করতে সাহায্য করবে। যা স্থানীয় দামকেও সমর্থন করবে। খাদ্যমন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী ‘X’ হ্যান্ডেলে পোস্ট করে পুরো বিষয়টি জানিয়েছে।
তিনি লিখেছেন, এই সিদ্ধান্ত মূল্য মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে, ৫ কোটি কৃষক পরিবার, ৫ লক্ষ শ্রমিককে সহায়তা করে এবং চিনি খাতকে শক্তিশালী করে। সরকারের পণ্য শ্রেণীবিভাগের অধীনে চিনি একটি অপরিহার্য এবং নিয়ন্ত্রিত পণ্য। ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মিষ্টিজাত পণ্যের ভোক্তা। কারণ দেশের উৎপাদিত চিনির ৯০% বাণিজ্যিক খাদ্য পণ্য, যেমন- বিস্কুট এবং পানীয়তে ব্যবহার করা হয়। উচ্চ উৎপাদনের পূর্বাভাসের মধ্যে বিদেশে বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৩-২৪ সালে উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা এবং স্থানীয় সরবরাহে উদ্বেগের কারণে রপ্তানি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। যেখানে চলতি বছরে দেশে ৪৭০ মিলিয়ন টনেরও বেশি আখ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারত সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে উৎপাদকদের একটি সংগঠন ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ISMA বলেছে যে ১০ লক্ষ টন রপ্তানির অনুমোদন স্থানীয় ভাবে কম দাম বজায় রাখতে সাহায্য করবে। যার ফলে লোকসান হবে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণে আখের প্রাপ্যতা বজায় রাখবে এবং কৃষকদের সময়মত আখের অর্থ প্রদানে অবদান রাখবে। ISMA-এর ডিরেক্টর জেনারেল দীপক বালানি (Deepak Ballani) জানিয়েছে, সীদ্ধান্তটি রপ্তানির সাথে দেশের এই শিল্পের ক্ষেত্রটির আর্থিক পরিষেবাকে উন্নত করবে। আর মিষ্টিপণ্য এবং ইথানলের জন্য আরও বেশি আখের সহজলভ্যতা তৈরি করবে।
ভারত দেশের ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচীর জন্য আখ ব্যবহার করে দেশটি ২০২৬ সালের মধ্যে ২০% ইথানল মিশ্রনের লক্ষ্য অর্জনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র ও সহযোগিতা মন্ত্রী (Home and Cooperation minister) অমিত শাহ সম্প্রতি চিনি সমবায়গুলিকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, ইথানানল মিশ্রণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২০৩০ সালের নির্ধারিত সময়সীমার থেকেও দ্রুত গতীতে এগোচ্ছে। এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেছেন যে ইথানল উৎপাদনের জন্য ভারতকে প্রায় ৪.৫ মিলিয়ন টন চিনি ব্যবহার করতে হবে। আর চিনি পেট্রোলের সাথে মেশানোর জন্যও ব্যবহৃত হবে।




