Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতির তালিকায় ভারত সাময়িকভাবে এক ধাপ পিছিয়ে গিয়ে ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির স্থানে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার সাম্প্রতিক অনুমান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জার্মানি, জাপান এবং যুক্তরাজ্যের পরেই এখন ভারতের অবস্থান। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই পিছিয়ে পড়া ভারতের প্রকৃত অর্থনৈতিক দুর্বলতার ইঙ্গিত নয়। মূলত মুদ্রার মানের ওঠানামার কারণে এই পরিবর্তন ঘটেছে। ভারতীয় টাকার তুলনায় ডলারের শক্তিশালী অবস্থানের ফলে ডলারে হিসাব করা GDP-এর মান কিছুটা কমে গেছে, যার প্রভাব পড়েছে র্যাঙ্কিংয়ে।
তবে ইতিবাচক দিক হল, ভারতের অর্থনীতি এখনও বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল। এছাড়া ৬% থেকে ৭% হারে GDP বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে, যা বড় অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম সেরা। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং পরিষেবা ও প্রযুক্তি খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ এই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই সাময়িক অবস্থান পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। বরং আগামী কয়েক বছরে ধারাবাহিক উন্নতির ফলে ভারত আবারও দ্রুত উপরের দিকে উঠে আসবে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০–৩১ সালের মধ্যে ভারত জার্মানি ও জাপানকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে সরকারের অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা, ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসার এবং উৎপাদন খাতে জোরদার উদ্যোগ। পাশাপাশি বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোও এই যাত্রাকে আরও গতিশীল করবে।




