Article By – সুনন্দা সেন

ইরানে চলমান যুদ্ধের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের থেকে ছড়িয়ে এবার পড়তে শুরু করেছে ভারতের বোতলজাত পানীয় শিল্পে বা প্যাকেজ ড্রিংকিং ওয়াটার ইন্ডাস্ট্রিতে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়ার ফলে প্লাস্টিক বোতল, ক্যাপ এবং অন্যান্য প্যাকেজিং সামগ্রীর খরচ দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় চাপে পড়েছে দেশের প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজড ড্রিংকিং ওয়াটার বাজার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বোতলজাত পানিয়র উৎপাদনে সবচেয়ে বড় খরচের একটি অংশ হল প্লাস্টিক বোতল ও ক্যাপ। এগুলি তৈরি হয় পেট্রোকেমিক্যাল পলিমার থেকে, যা মূলত অপরিশোধিত তেল থেকে উৎপন্ন।
শিল্প সংস্থাগুলি তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ২ হাজার ছোট ও মাঝারি বোতলজাত ড্রিংকিং ওয়াটারের নির্মাতা ডিস্ট্রিবিউটারদের কাছে বোতল প্রতি প্রায় ১ টাকা করে দাম বাড়িয়েছে। এটি প্রায় ৫% বৃদ্ধির সমান। যদি কাঁচামালেট দাম আরও বাড়ে, তাহলে আগামী দিনে আরও ১০% পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিজলারি, কিনলে এবং অ্যাকুয়াফাইনের মতো অনেক বড় সংস্থা খুচরা বাজারে দাম বাড়ায়নি। তারা আপাতত বাড়তি খরচের একটি অংশ নিজেরাই বহন করছে।
তবে শিল্প মহলের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তাদের ওপরও পড়বে। সাথে কাঁচামালের দাম বাড়তে থাকলে শিল্পের ওপর দ্বিগুণ চাপ বাড়তে পারে, অর্থাৎ একদিকে চাহিদা বাড়বে এবং অন্যদিকে উৎপাদনের খরচও বাড়বে। পাশাপাশি বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে; তাহলে শুধু বোতলজাত ড্রিংকিং ওয়াটার নয়, প্যাকেজিং নির্ভর অনেক ভোক্তা পণ্যের দামও বাড়তে পারে। কারণ প্লাস্টিক প্যাকেজিং কেবল জন নয় খাদ্য, পানীয় এবং FMCG ইন্ডাস্ট্রির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে।




