Article By – সুনন্দা সেন

গ্লোবাল এনার্জি মনিটর (GEM) এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট (GW) নন-ফসিল বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করতে ভারতকে তার বার্ষিক রিনিউয়েবেল এনার্জি ক্ষমতা সংযোজন দ্বিগুণ করতে হবে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত ২০২৪ সালে রেকর্ড ৩৪.৭ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করেছে। যার মধ্যে সৌর ফটোভোলটাইক (PV) মোট উৎপাদনের ৭১%। তবে, শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও রিনিউয়েবেল এনার্জি, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাত্র এক-পঞ্চমাংশের জন্য দায়ী।
GEM জানিয়েছে, বার্ষিক রিনিউয়েবেল এনার্জি ক্ষমতা সংযোজন ২০২৪ সালের স্তরের তুলনায় গড়ে ৬০% বেশি অথবা বছরে ১৫% বৃদ্ধি পেতে হবে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এনার্জি কনজিউমার ভারত। দেশটিতে অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও জীবাশ্ম জ্বালানি বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রাধান্য বিস্তার করে চলেছে, তবুও GEM তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে উন্নয়নের অধীনে রিনিউয়েবেল প্রকল্পগুলি দুই বছরের মধ্যে কয়লা উৎপাদন ক্ষমতা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৪ সালে ভারতের মোট জীবাশ্ম উৎপাদন ক্ষমতার মোট সংযোজনের মধ্যে কয়লা ছিল ৫.৬ গিগাওয়াট।
সম্প্রতি সরকার বৃহৎ কয়লা কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন দ্রুততর করেছে। যার ফলে ২০২৪ সালে কয়লা প্রস্তাবের পাইপলাইন ৪৫% বৃদ্ধি পেয়ে ১১১ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে। রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে ইতিমধ্যে, উন্নয়নাধীন সমস্ত রিনিউয়েবেল এনার্জির প্রায় অর্ধেকই ইউটিলিটি-স্কেল সৌর প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত, যার নির্মাণ পর্যায়ে কয়লা প্রকল্পের তুলনায় ক্ষমতা বেশি। ২০২৪ সালে বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে ৩.৪ গিগাওয়াটে পৌঁছেছে, কিন্তু সরবরাহ শৃঙ্খল এবং নিয়ন্ত্রক চ্যালেঞ্জের কারণে ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের সর্বোচ্চ স্তর থেকে নীচে ছিল।
ভারতের রিনিউয়েবেল সম্প্রসারণ মূলত ছয়টি রাজ্যে কেন্দ্রীভূত – রাজস্থান, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, মধ্যপ্রদেশ এবং কর্ণাটক। যা ২০২৪ সালে সৌর ও বায়ু সংযোজনের ৮৯% জন্য দায়ী। কেবল রাজস্থানই সৌর ক্ষমতা সম্প্রসারণে নেতৃত্ব দিয়েছে ২৭%- এর। এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, GEM সতর্ক করে দিয়েছে যে অপর্যাপ্ত সঞ্চালন ক্ষমতা, উচ্চ অর্থায়ন খরচ এবং জমি অধিগ্রহণের সমস্যা রিনিউয়েবেল ডেভেলপমেন্টে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটিকে কয়লা থেকে রূপান্তরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মোকাবেলা করতে হবে, যা এখনও মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৭৫%। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি-ভিত্তিক(fossil fuel-based) বিদ্যুৎ দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি অবদান রেখেছে।




