Article By – সুনন্দা সেন

সরকার ও বাণিজ্য সূত্র আজকে রয়টার্সকে জানিয়েছে, ভারত নতুন মৌসুমে ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। কারণ ইথানল উৎপাদনের জন্য চিনির ব্যবহার হ্রাসের ফলে দেশীয়ভাবে আরও বেশি উদ্বৃত্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাথে এও অনুমান করা হচ্ছে যে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী দেশটির উচ্চ রপ্তানি নিউ ইয়র্ক এবং লন্ডনের ফিউচার ইনডেক্সের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, যা পাঁচ বছরের সর্বনিম্নের কাছাকাছি। এছাড়াও এই রপ্তানি দেশে চিনির মজুদ কমাতে সাহায্য করবে এবং স্থানীয় দামকে সমর্থন করবে, যার ফলে বলরামপুর চিনি মিলস, ইআইডি প্যারি, ডালমিয়া ভারত এবং শ্রী রেণুকা সুগার্সের মতো উৎপাদকরা উপকৃত হবেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, সরকার সম্ভবত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০২৫/২৬ মৌসুমে ১৫ লক্ষ টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দেবে, যার চূড়ান্ত আদেশ শীঘ্রই আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। অবশ্য এখনো রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধের সাথে সাথেই ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবন্টন মন্ত্রণালয় সাড়া দেয়নি। ২০২২/২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে মোট পাঁচ বছরে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি রপ্তানিকারক ছিল, যেখানে গড়ে বার্ষিক ৬.৮ মিলিয়ন টন চিনি রপ্তানি হয়েছিল। কিন্তু খরার কারণে সরকার ২০২৩/২৪ সালে চিনি রপ্তানি নিষিদ্ধ করে এবং গত বছর মাত্র ১০ লক্ষ বা ১ মিলিয়ন টন চিনি বিদেশে পাঠানো সম্ভব হয়।
ইন্ডিয়ান সুগার অ্যান্ড বায়ো-এনার্জি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ISMA) অনুসারে, ২০২৫/২৬ মৌসুমে ভারতের নিট চিনি উৎপাদন ৩০.৯৫ মিলিয়ন টন অনুমান করা হয়েছে। যা প্রায় ৩.৪ মিলিয়ন টন ইথানল উৎপাদনের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৮.৫% বেশি। গত সপ্তাহে ISMA নয়াদিল্লির কাছে নতুন মৌসুমে ২০ লক্ষ টন চিনি রপ্তানির অনুমতি দাবি করে। শিল্প সংস্থাটি আগে আশা করেছিল যে এই বছর ইথানলের জন্য ৪৫ লক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টন চিনি ব্যবহার করা হবে। কিন্তু জৈব জ্বালানির জন্য মোট বরাদ্দের মাত্র ২৮% চিনি-ভিত্তিক ইথানলে গেছে, বাকি অংশ ফিড-ভিত্তিক ইথানল প্ল্যান্টে বরাদ্দ করা হয়েছে।




