Article By – সুনন্দা সেন

বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI আকর্ষণের ক্ষেত্রে বড় সাফল্য অর্জন করল ভারত। ইউনাইটেড ন্যাশন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন UNCTAD (United Nations Conference on Trade and Development)-এর প্রকাশিত বৈশ্বিক বিনিয়োগ রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বের শীর্ষ FDI গন্তব্যগুলির তালিকায় ভারতের স্থান ১৩ তম থেকে উঠে ১১ তম স্থানে পৌঁছেছে। এই সময়ে ভারতের বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪৪% বেড়ে ৩৮.৮৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিষেবা খাতের পাশাপাশি উন্নত উৎপাদন শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকারের ধারাবাহিক নীতি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ভারতের এই অগ্রগতির অন্যতম কারণ। যদিও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন গ্রিনফিল্ড প্রকল্পের ঘোষণা কিছুটা কমেছে, তবুও সামগ্রিকভাবে ভারত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলিতে FDI প্রবাহ যেখানে তুলনামূলকভাবে ধীর গতিতে বেড়েছে, সেখানে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি শক্তিশালী। অন্যদিকে, বিশ্বের বৃহত্তম FDI গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রেও ২০২৫ সালে বিনিয়োগ কিছুটা কমেছে এবং চীনও আগের বছরের তুলনায় কম FDI পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মানচিত্রে দেশের অবস্থানকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এই সাফল্যের প্রভাব শুধু বিনিয়োগের অঙ্কেই সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্প স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আধুনিক প্রযুক্তির আগমন এবং উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাত আরও গতি পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করছে। আর ২০২৫ সালে বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম FDI গন্তব্য হিসেবে ভারতের উত্থান প্রমাণ করছে যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ভারতের আকর্ষণ ক্রমশ বাড়ছে।




