Article By – সুনন্দা সেন

২০২৫ সাল জুড়ে ভারতের অর্থনীতি একাধিক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মধ্যেও স্থিতিশীলতা বজায় রেখে এগিয়েছে। উচ্চ সুদের হার, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, পণ্যমূল্যের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কার মাঝেও ভারতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কা এড়াতে সক্ষম হয়েছে। তবে বছরের শেষে দাঁড়িয়ে অর্থনীতিবিদদের মত, যাত্রা মসৃণ হলেও সামনে পথ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এই বছরে ভারতের GDP প্রবৃদ্ধি শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে, যার মূল চালিকাশক্তি ছিল অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সরকারি মূলধনী ব্যয় এবং পরিষেবা খাতের ভালো পারফরম্যান্স। অবকাঠামো, রেল, সড়ক ও প্রতিরক্ষা খাতে সরকারি বিনিয়োগ অর্থনীতিকে সহায়তা করেছে।
পাশাপশি ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও পরিষেবা রপ্তানি ভারতের বৃদ্ধির ভিত আরও মজবুত করেছে। তবে শিল্প ও রপ্তানি খাতে চাপ স্পষ্ট ছিল। ইউরোপ ও আমেরিকার চাহিদা দুর্বল হওয়ায় রপ্তানি বৃদ্ধিতে গতি কমেছে। উৎপাদন খাতে কিছু উন্নতি হলেও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ প্রত্যাশিত মাত্রায় বাড়েনি। গ্রামীণ অর্থনীতিও মিশ্র ছবি দেখিয়েছে—কিছু অঞ্চলে আয়ের চাপ থাকলেও সরকারি সহায়তা ও মুদ্রাস্ফীতির ধীরে নামা পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির ক্ষেত্রে ২০২৫ ছিল আংশিক স্বস্তির বছর। খাদ্যদ্রব্যের দামের ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে RBI। সুদের হার স্থিতিশীল থাকায় ঋণগ্রহণ ও ভোগব্যয় পুরোপুরি থমকে যায়নি।
আর ব্যাংকিং খাতে সম্পদের গুণগত মান উন্নত হয়েছে এবং NPA কমার প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। তবে সামনে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ২০২৬ সালে প্রবেশের মুখে দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি, জ্বালানি দামের অনিশ্চয়তা, জলবায়ু-জনিত প্রভাব এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন ভারতের অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৈষম্য কমানো বড় নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে। অর্থাৎ ২০২৫ সালে ভারতীয় অর্থনীতি দক্ষ নাবিকের মতো ঝড়ো সমুদ্র পেরিয়ে এসেছে, কিন্তু সামনের জলরাশি যে পুরোপুরি শান্ত—তা বলা যাচ্ছে না।




