Article By – সুনন্দা সেন

২০ জুলাই অর্থাৎ রবিবার PTI জানিয়েছে যে ভারতীয় চালকল মালিক এবং রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশের “৯ লক্ষ টন চাল আমদানির পরিকল্পনা” সম্পর্কে আশাবাদী। কারণ এতে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং খাদ্যশস্যের দামও তুলনামুলক ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী চাল রপ্তানিতে ভারতের অংশীদারিত্ব থাকে ৪৬%। তাই দেশটি নৈকট্য, প্রাপ্যতা এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণের কারণে এই পদক্ষেপের প্রাথমিক সুবিধাভোগী হিসাবে আবির্ভূত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জয় বাবা বক্রেশ্বর রাইস মিলের পরিচালক রাহুল আগরওয়াল বলেন, বাংলার চাল শিল্প বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য যথেষ্ট অবস্থানে রয়েছে।
রাইসভিলা ফুডসের CEO সুরজ আগরওয়াল পিটিআইকে জানিয়েছেন, “মোট আমদানি পরিকল্পনার মধ্যে ৪ লক্ষ টন সরাসরি আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার সংগ্রহ করবে। আর ৫ লক্ষ টন আমদানি করবে প্রতিবেশী দেশের বেসরকারি ব্যবসায়ীরা। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় স্বাভাবিকের চেয়ে আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বর্তমানে বপন করা আমন ধানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।” তিনি আরও বলেন যে বেসরকারি আমদানির কমপক্ষে ৩০%-৪০% সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গের মিল এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আসবে।
চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ‘স্বর্ণ’, ‘রত্ন’, ‘মিনিকেট’ এবং ‘সোনা মাসুরি’-এর মতো জনপ্রিয় ভারতীয় ধানের জাতগুলির দাম পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ ভারতে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সুরজ আগরওয়াল বলেন, ‘স্বর্ণ মনসুরি’ সিদ্ধ চালের দাম, যা এখন প্রতি কেজি ২৯ টাকা (এক্স-মিল) তা বেড়ে ৩১-৩২ টাকা হতে পারে। যেখানে ‘মিনিকেট’ জাতের চাল, যা বর্তমানে ৪১-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, আগামী সপ্তাহগুলিতে প্রতি কেজি ৪৫ টাকায় পৌঁছাতে পারে। আশা করা হচ্ছে এই বৃদ্ধির ফলে পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা এবং বিহারের মতো রাজ্যগুলি সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বাংলাদেশের প্রাথমিক আমদানি পরিকল্পনা আমন মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যার আগে নেওয়া সতর্কতামূলক পদক্ষেপ। প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশ সরকার ১৪ লক্ষ টনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ইতিমধ্যে ৩.৭৬ লক্ষ টন বোরো ধান এবং ৯.৫০ লক্ষ টন চাল সংগ্রহ করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগস্ট মাস থেকে বাংলাদেশ তার খাদ্য-বান্ধব কর্মসূচি ৫৫ লক্ষ পরিবারে মধ্যে সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছে। আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে প্রতি মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল সরবরাহ করবে। আর বিশাখাপত্তনম এবং পারাদ্বীপ বন্দর চাল রপ্তানির জন্য প্রধান বন্দর।




